সিরিয়ার কুর্দিদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্কের বৈঠক: অগ্রগতির আশাবাদ

সিরিয়ার কুর্দি বিদ্রোহীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে চলা আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু। সোমবার তার ওই বক্তব্য ‘টিআরটি হাবের’ নামক তুর্কি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে। তাদের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স লিখেছে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সঙ্গে সিরিয়ার কুর্দি বিদ্রোহীদের বিষয়ে বৈঠক করেছেন। বৈঠককে তিনি ‘সফল’ আখ্যা দিয়েছেন।s1.reutersmedia.net

ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস বিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী কুর্দিদের সংগঠন ওয়াইপিজি। তাদেরকে অস্ত্র সরবরাহ করত ওয়াশিংটন। ২০১৭ সালের মে মাসে তাদর জন্য সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছিলেন পেন্টাগনের মুখপাত্র মেজর আদ্রিয়ান রেনকাইন। পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো অস্ত্রের প্রথম চালানের মধ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর কিছু ছোট অস্ত্র ও সামরিক যানবাহন অন্তর্ভুক্ত।

কিন্তু কুর্দিদের মার্কিন সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে তীব্র আপত্তি রয়েছে তুরস্কের। তুরস্ক দাবি করে, সিরিয়ায় কুর্দিদের সংগঠন ওয়াইপিজি আসলে তুরস্কে কুর্দিদের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন পিকেকের শাখা। কুর্দি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পিকেকে তুরস্ক, ইরান, ইরাক ও সিরিয়ার অংশবিশেষ নিয়ে কুর্দিস্তান নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী। পিকেকে তিন দশক ধরে তুরস্কের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত রয়েছে। ১৯৮৪ সাল থেকে এ বিদ্রোহে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

২০১৮ সালের শুরুর দিকে মার্কিন সমর্থিত কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ওয়াইপিজিকে পরাজিত করতে সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত আফরিনে সেনা অভিযান শুরু করে তুরস্ক। গত ২০ জানুয়ারি ‘অপারেশন অলিভ ব্রাঞ্চ’ নামে শুরু হওয়া অভিযানে হতাহত হয় অনেক মানুষ। এখন তুরস্ক কুর্দি বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসেছে। সম্প্রতি সিরিয়ার বাসার আল আসাদ মার্কিন সমর্থিত কুর্দিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিরীয় এলাকা উদ্ধারে তার দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা জানিয়েছেন।