ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা বাড়াতে প্রস্তুতির নির্দেশ ইরানের

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা এক লাখ ৯০ হাজার এসডব্লিউইউতে উন্নীত করার প্রস্তুতি নিতে জাতীয় আণবিক শক্তি সংস্থার প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার বিকেলে ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা খোমেনির মৃত্যুবার্ষিকীর বিশাল সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এ নির্দেশ দেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পার্স টুডে এ খবর জানিয়েছে।

4bpqc29fe8ef3616akb_800C450

ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার পর চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই নির্দেশ দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের কয়েকটি দেশ, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু এ বছর 'ত্রুটিপূর্ণ' আখ্যা দিয়ে ওই চুক্তিকে বাতিল করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইউরোপের স্বাক্ষরকারী দেশগুলো চুক্তিটি রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের সমর্থন দিয়েছে রাশিয়া ও চীন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতির কারণে চুক্তির কার্যকারিতা অনেকটাই প্রশ্নের মুখে। যেহেতু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের শাস্তির আওতায় পড়বে, সেহেতু শুধু ইউরোপের সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে স্বাভাবিক বিনিয়োগ ইরানে করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ওই চুক্তির মূল উদ্দেশ্যই ছিল ইরানের ইউরেনিয়াম সক্ষমতা কমিয়ে আনা, যাতে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র গড়ে তুলতে না পারে। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলে পুরোদমে পারমাণবিক কর্মসূচি চালু করার হুমকি দিয়েছিল দেশটি।

খামেনি বলেন, পরমাণু সমঝোতার ভিত্তিতে আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকেই এ সংক্রান্ত প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। তিনি আরও বলেন, কোনও কোনেও ইউরোপীয় সরকারের কথাবার্তা থেকে মনে হচ্ছে, তারা চায় ইরানি জাতি নিষেধাজ্ঞাও সহ্য করবে, আবার পরমাণু কর্মসূচিও বন্ধ রাখবে। কিন্তু ওইসব ইউরোপীয় সরকারের জেনে রাখা উচিত, তাদের এই স্বপ্ন সত্যি হবে না।

নিশ্চিতভাবেই খুব শিগগিরই ইরানের জন্য পরমাণু তৎপরতার প্রয়োজন দেখা দেবে বলে খামেনি উল্লেখ করেন।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি প্রসঙ্গে খামেনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। (সাদ্দামের) চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সময় আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ছিল না, এ কারণে সীমান্ত শহরগুলো থেকে শুরু করে রাজধানী তেহরান পর্যন্ত রাত-দিন ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়তো। কিন্তু বর্তমানে তরুণ বিশেষজ্ঞদের কল্যাণে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রেষ্ঠ ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিতে পরিণত হয়েছি। শত্রুরা এটা জানে, তারা যদি একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, তাহলে আমরা দশটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এর জবাব দেবো।

খামেনি আরও বলেন, শত্রুরা এ বিষয়ে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালাচ্ছে, যাতে আমরা আমাদের জাতীয় শক্তি ও দৃঢ়তার এই উপাদান হাতছাড়া করি এবং তারা সহজেই আমাদের দেশ-জাতি ও ভবিষ্যতের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। কিন্তু ইরানি জাতি তাদের এ তৎপরতা মোকাবেলায় রুখে দাঁড়িয়েছে।