গাজা অভিমুখী সুইডিশ জাহাজ আটকে দিলো ইসরায়েল

ইসরায়েলের নৌবাহিনী গাজায় ত্রাণ সরবরাহের কাজে নিয়োজিত একটি জাহাজকে আটক করেছে। আটকের সময় সুইডেনের পতাকাবাহী জাহাজটিতে ১২ জন কর্মী ছিলেন। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা লিখেছে, এ নিয়ে এ সপ্তাহে গাজা অভিমুখী দুইটি ত্রাণবাহী জাহাজ ইসরায়েলের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হলো।91985_761

‘ফ্রিডম ফর গাজা’ নামক জাহাজটি ফিলিস্তিনে ত্রাণ সরবরাহের কাজে গঠিত ফ্রিডম ফ্লোটিলার চারটি জাহাজের একটি। শুক্রবার গাজা উপকূল থেকে ৯ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকতেই তাদেরকে বাধা দেয় ইসরায়েলি নৌবাহিনী। ইসরায়েল গাজা উপকূলের ৬ নটিক্যাল মাইলের ভেতরে কোনও জাহাজকে যেতে না দেওয়ার ঘোষণা দিলেও, শুক্রবারের ঘটনায় তারা ৯ নটিক্যাল মাইল দূর থাকা অবস্থাতেই জাহাজটিকে আটক করে। আটকের পর ‘ফ্রিডম ফর গাজাকে’ ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।

উপকূলের ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকতেই তাদের সঙ্গে জাহাজটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া কথা জানিয়ে ফ্রিডম ফ্লোটিলার একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা দাবি করছি, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী যেন আমাদের নিরস্ত্র জাহাজের যাত্রায় হস্তক্ষেপ না করে। আমরা গাজাতে মানবিক ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে চাই।’

গাজাতে বসবাসরত ২০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য জরুরি সেবাগুলো থেকে বঞ্চিত।। জাতিসংঘের মতে, ২০২০ সালের মধ্যে এলাকাটি আর বসবাসের উপযোগী থাকবে না।

ইসরায়েল দাবি করেছে, ত্রাণবাহী জাহাজটিকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং জাহাজের আরোহীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ সপ্তাহে এটি ফ্রিডম ফ্লোটিলার দ্বিতীয় জাহাজ যা ইসরায়েল আটক করেছে। গত রবিবার নরওয়ের পতাকাবাহী একটি জাহাজ আটক করেছিল দেশটি। ওই জাহাজে ২৩ জন ব্যক্তি ছিলেন।

২০১৫ সালে চারটি জাহাজকে একইভাবে আশদোদ বন্দরে ভিড়তে বাধ্য করেছিল ইসরায়েল। ২০১০ সালে তুরস্কের মাভি মারমারা ফ্লোটিলাতে হামলা চালিয়ে ইসরায়েলি নৌবাহিনী ৯ জন তুর্কি নাগরিককে হত্যা করেছিল।