আগামী মাসে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন মিশেল বাসেলে। দায়িত্বগ্রহণের শুরুতেই তাকে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি নিয়ে একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর এই কঠিন সিদ্ধান্তটি হলো- ইসরায়েলি বসতিতে বাণিজ্য করা ২০০ জন ব্যবসায়ীর তালিকা প্রকাশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্ক আরও খারাপের দিকে নেওয়ার ঝুঁকি নেবেন কিনা। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এখবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর বাসেলে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট বাসেলেকে শুরুতেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতিতে যেসব কোম্পানি ব্যবসা করছে সেগুলোর তালিকা তিনি প্রকাশ করবেন কিনা।
ফিলিস্তিনি আন্দোলনকর্মীরা বলছেন, জাতিসংঘের তৈরি তালিকাটি আইন অমান্যকারীদের বৈশ্বিক বয়কট ও বিনিয়োগ প্রত্যাহারে সহযোগিতা করবে। ব্যবসায়ীরা বুঝতে পারবে ইসরায়েলের অবৈধ বসতিতে বাণিজ্য করা বেআইনি। এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছে ক্যাটারপিলার, এয়ারবিএনবি ও মটোরোলা।
এই বছরের শুরুতে জাতিসংঘ তালিকাটি প্রকাশ পিছিয়ে দেয়। আশঙ্কা তৈরি হয়, তালিকাটি হয়তো আর আলোর মুখ দেখবে না ইসরায়েল ও তার প্রভাবশালী মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের চাপে। যুক্তরাষ্ট্র এই বছর জুনে ৪৭ রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ইসরায়েল বিশেষজ্ঞ সারি বাশি জানান, তালিকাটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকাশ না করাটা ছিল দুঃখজনক। কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বাসেলেকে তালিকাটি প্রকাশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইউএস ক্যাম্পেইন ফর প্যালেস্টাইন রাইটস নামের সংগঠনের পলিসি ডিরেক্টর জোশ রুয়েবনার জানান, তালিকাটি প্রকাশ না করতে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েল ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের ওপর। তিনি বলেন, আমি চাই তালিকাটি প্রকাশ হোক, কিন্তু এটা যে প্রকাশ হওয়ার বিষয়ে আমি আশাবাদী না।