প্রথমবারের মতো নারী অধিকারকর্মীর মৃত্যুদণ্ড চাইলো সৌদি আরব

সৌদি আরবের সরকারি কৌঁসুলি আটক পাঁচজন নারী অধিকারকর্মীর মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি চেয়েছে। গোপন সন্ত্রাসবাদ আদালতে এই অধিকারকর্মীদের বিচার চলছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এ তথ্য জানিয়েছে।

ইসরা আল-ঘোমঘাম

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, আটক ওই পাঁচ অধিকারকর্মীর মধ্যে ইসরা আল-ঘোমঘাম প্রথম আন্দোলনকর্মী হিসেবে মানবাধিকারকর্মীদের সৌদি আরবে প্রথম মৃত্যুদণ্ডের সাজা পেতে পারেন। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বিক্ষোভে উস্কানি ও দাঙ্গাকারীদের নৈতিক সহযোগিতা প্রদান।

বুধবার এক বিবৃতিতে এইচডব্লিউ বলেছে, যে কোনও মৃত্যুদণ্ডই মর্মঘাতী। কিন্তু ইসরা আল-ঘোমঘামের মতো ব্যক্তি যার সহিংসতা মনোভাবই নেই তার জন্য মৃত্যুদণ্ড চাওয়াটা বীভৎস।

অধিকারকর্মীদের মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার খবরটি প্রথম জানিয়েছে অ্যাএলকিউএসটি নামের লন্ডনভিত্তিক সৌদি মানবাধিকার গোষ্ঠী।

এই বিষয়ে দ্য গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের যোগাযোগ কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, বিচার এখনও চলছে। সামাজিকমাধ্যমে আটকদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে ফেলার কথা অস্বীকার করছেন তারা।

ঘোমঘাম সৌদি আরবের প্রখ্যাত শিয়া অ্যাক্টিভিস্ট। তিনি ২০১১ সালে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের বিক্ষোভ নথিভুক্ত করেছিলেন। ২০১৫ সালে নিজ বাসা থেকে স্বামীসহ গ্রেফতার করা হয় তাকে।

এর আগে সৌদি আরব শিয়া অ্যাক্টিভিস্টদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ওই সব মৃত্যুদণ্ডকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছে।