ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিমান হামলা, নিহত অন্তত ২২ শিশু ও চার নারী

বৃহস্পতিবার সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধজোটের হামলায় ইয়েমেনে অন্তত ২২ শিশু ও চার নারীর মৃত্যু হয়েছে। প্রথম হামলার পর প্রাণে বাঁচতে তারা একটি বাসে উঠে স্থানটি ত্যাগের চেষ্টা করছিল। এমন সময় বাসটিকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয়বার হামলা চালানো হয়। সৌদি যুদ্ধজোট হুথিদের এই দাবি অস্বীকার করেছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, হুথিদের সংবাদমাধ্যমে সৌদি জোটের হামলার সংবাদ যেমন প্রচারিত হয়েছে তেমনি আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে একই দিনে, একই জেলায় হুথিদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক শিশুর মৃত্যু হওয়ার সংবাদ প্রচার করা হয়েছে।ইয়েমেনে সৌদি আরব ও সংযুক্তর আরব আমিরাত

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেনে হামলা চালিয়ে আসছে। তাদের উদ্দেশ্য, দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে বৈধ হিসেবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট আবু রাব্বু মানসুর হাদির সরকারকে স্থিতিশীল করা। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা হাদি সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, সৌদি হামলায় শিশুদের মৃত্যুর এমন ঘটনা নিকট অতীতেও ঘটেছে। দুই সপ্তাহ আগে একটি স্কুল বাসকে লক্ষ্য করে সৌদি জোট বিমান হামলা চালালে ৪০ স্কুল শিক্ষার্থী প্রাণ হারায়।

হুথিদের প্রচার মাধ্যম আল মাসিরাহ টিভি বৃহস্পতিবারের হামলার খবরটি প্রচার করেছে। হামলার স্থানটিতে বাস্তুচ্যুতদের শিবির ছিল। স্থানটি লোহিত সাগর পাড়ে অবস্থিত হুদাইদাহ শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অন্যদিকে হাসপাতালের বরাতে সানাভত্তিক হুথিপন্থী অধিকার কর্মী হুসেইন আল বুখাইতি জানিয়েছেন, ওই হামলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে। বুখাইতি বলেছেন, ‘প্রথমে সৌদি বিমান হামলা হয়েছিল আদ দুরেইহিমি গ্রামে। ওই হামলায় পাঁচ জন নিহত হন। সেখান থেকে পালাতে নারী ও শিশুরা একটি বাসের দিকে যেতে থাকলে দ্বিতীয়বার হামলা চালায় সৌদি বিমান। এতে প্রাণ হারান বাসের সবাই।’

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম ওয়াম জানিয়েছে, হুথিরা একই জেলায় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে এক শিশু নিহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হুথিদের হামলাটির স্থান আদ দুরেইহিমির আল ঘালিফকা গ্রাম।