ত্রিপোলিতে সরকার পক্ষের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, জরুরি অবস্থা জারি

দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলিতে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে চারজন নিহত হয়েছে, সংঘর্ষের আহত হয়েছে অন্তত সাত জন। দেশটির জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে। সংঘর্ষে লিপ্ত দুইটি গোষ্ঠীই সরকার পক্ষের। এদের একটি ত্রিপোলিভিত্তিক। অপরটির ঘাঁটি দেশের দক্ষিণপূর্বে। শক্তি বাড়াতে লিবিয়ার দক্ষিণ থেকে উত্তরে তারা সেনা পাঠাবার চেষ্টা করছিল। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ত্রিপোলির রাস্তা এখন ট্যাংক ও যুদ্ধযানের দখলে। লিবিয়ায় সশস্ত্র বাহিনীর গোলাগুলি

লিবিয়ার ‘প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল’ সংঘর্ষ প্রতিরোধ করতে না পারায় দেশটির সরকারের নিন্দা জানিয়েছে। প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা এসব দলকে সতর্ক করে দিয়ে বলতে চাই, জনগণকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে দেওয়ার মতো অরাজকতা ও বেআইনি কার্যকলাপের কোনও স্থান নেই লিবিয়াতে। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদেশ দিয়েছি। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিচারে আওতায় আনা হবে।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের সময় কামানের মতো ভারি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। শেলিংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ত্রিপোলির আবাসিক এলাকার অনেক ভবন। নাগরিকরা আক্রান্ত এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন। ত্রিপোলির রাস্তা-ঘাট অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। রাস্তায় রয়েছে ট্যাংকসহ অন্যান্য যুদ্ধযান। ত্রিপোলির স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাত শুরু হয়েছে আল কানি গোত্রের সশস্ত্র যোদ্ধাদের। ত্রিপোলির দক্ষিণেপূর্বে অবস্থিত তারহৌমার আদিবাসীদের সংগঠনটি দেশটির উত্তরে শক্তি বৃদ্ধির চেষ্টা করছিল। এই দুই পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স’ (জিএনএ) নামে পরিচিত জাতিসংঘের সমর্থনপুষ্ট সরকারের পক্ষের বাহিনী।

আল জাজিরা লিখেছে, এই সংঘাতের সূচনা গত সপ্তাহে এক নিরাপত্তা চৌকিতে জিএনএর ছয়জন সেনা সদস্যের নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে। শনিবার ইসলামিক স্টেট ওই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। তারা লিবিয়ার সেনাদের ‘ধর্মত্যাগী’ আখ্যা দিয়েছে। শনিবার লিবিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আল আহরার সংবাদমাধ্যমকে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারের কথা নিশ্চিত করেছেন। সাত বছর আগে লিবিয়ার শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর দেশটিতে দুটি ক্ষমতা বলয় তৈরি হয়েছে। রাজধানী লিবিয়াতে রয়েছে জাতিসংঘ সমর্থিত জিএনএ সরকার। অন্যদিকে দেশটির পূর্বে রয়েছে স্বঘোষিত নেতা খলিফা হাফতারের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যবস্থাপনা।

সংবাদমাধ্যম লিবিয়া নিউজ জানিয়েছে, দেশটির ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর হিউম্যান রাইটস’ সোমবার এক বিবৃতি দিয়ে সংঘাতপূর্ণ এমন অবস্থার জন্য গভীর উদ্বগ প্রকাশ করেছে।