সামরিক কুচকাওয়াজে হামলা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের হুঙ্কার ইরানের

আহওয়াজে সামরিক কুচকাওয়াজে হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জড়িত থাকার অভিযোগ করে দেশ দুটির বিরুদ্ধে 'রক্তক্ষয়ী ও অভাবনীয়' প্রতিশোধ নেওয়া হুঁশিয়ারির কথা জানিয়েছে ইরান। রবিবার ইরানের সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান এই হুমকি দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনীও প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে।

4bk7bf26a2a669au0s_800C450শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজ চলাকালে ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে জঙ্গি হামলা হয়। অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের ওই হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। আহত হয়েছেন আরও ৭০ জন। হতাহতদের মধ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি কুচকাওয়াজ দেখতে যাওয়া নারী ও শিশুরাও রয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান হোসেইন সালামি বলেন, আপনারা আমাদের প্রতিশোধ নেওয়া অতীতে দেখেছেন। আপনারা মনে রাখুন, আমাদের প্রতিশোধ হবে রক্তক্ষয়ী ও অভাবনীয়। যা করেছেন সেটার জন্য আপনাদের অনুশোচনায় পড়তে হবে।

দেশটির গোয়েন্দা প্রধান মাহমুদ আলাভি জানান, হামলায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রবিবার পৃথক এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনীও প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের নিষ্ঠুর শক্তিগুলো ও তাদের আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়াশীল সরকারগুলো আহওয়াজ হামলার মাধ্যমে স্পষ্ট করেছে যে ইরানের ভেতরে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করতে এমন কোনও প্রচেষ্টা নেই যা তারা চালাবে না। এমনকি তারা নারী-শিশুসহ নিরপরাধ লোকজনের ওপর হামলা করতেও দ্বিধা করবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শত্রুর এ ধরনের অপরাধ ইরানের কঠোর অবস্থানকে নড়বড়ে করতে পারবে না। আহওয়াজ হামলার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করার জন্য সেনাবাহিনী কোনও প্রচেষ্টা বাদ দেবে না।

এর আগে সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র আর মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের দায়ী করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। তিনি বলেছেন, ইরানকে অনিরাপদ করে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যের পুতুল সরকারগুলোর ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় আহওয়াজে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, পার্স টুডে।