সিরিয়ার হাতে এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাশিয়ার

নিজেদের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার প্রেক্ষিতে রাশিয়া সিরিয়াকে এস-৩০০ ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু সোমবার বলেছেন, দুই সপ্তাহের মধ্যেই সিরিয়া নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি হাতে পাবে। রয়টার্স জানিয়েছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সিরিয়ায় রুশ বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় রাশিয়া ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। অন্যদিকে এ ঘটনার জন্য ইসরায়েল সিরিয়ার ওপর দায় চাপিয়েছে।এস-৩০০

আইএল-২০ বিমানটি সিরিয়া থেকে রাশিয়ায় ফেরত যাচ্ছিল। এ সময় ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো ইসরায়েলি বিমানকে লক্ষ্য করে সিরীয় এস-২০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাল্টা হামলা চালায়। কিন্তু সিরীয় এস-২০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং ইসরায়েলি জঙ্গি বিমানের মধ্যখানে থাকা রুশ বিমানটি উপকূল থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে বিধ্বস্ত হয়।

সোমবার সের্গেই শোইগু বলেছেন, ‘সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দমনে কাজ করা রুশ সেনাদের সুরক্ষায় যথেষ্ট পরিমাণে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’ আশা করি যেসব নতুন পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি তাতে মাথা গরম পক্ষের মাথা ঠান্ডা হবে এবং ভবিষ্যতে পরিণতির কথা না ভেবে এমন ঘটনা ঘটানো থেকে তারা বিরত থাকবে।’ ওই বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ১৫ রাশিয়ান সৈন্য প্রাণ হারিয়েছিলেন। রাশিয়ার তাস নিউজ উল্লেখ করেছিল, ‘চারটি ইসরায়েলি এফ-১৬ বিমান সিরিয়ার লাটাকিয়া প্রদেশে হামলা চালানোর সময় রুশ বিমানটি নিখোঁজ হয়ে যায়।’

সিরিয়াকে এস-৩০০ দেওয়ার পাশাপাশি মস্কো রাডার সিগনাল জ্যামার বসানোরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে ভূমধ্যসাগরের দিক থেকে কোনও যুদ্ধবিমান হামলা চালাতে না পারে। টাইমস অব ইসরায়েলের ভাষ্য, এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দেওয়ার বিষয়ে সিরিয়ার সঙ্গে ২০১০ সালেই সমঝোতা হয়েছিল রাশিয়ার। কিন্তু ইসরায়েলি অনুরোধের প্রেক্ষিতে তা স্থগিত রাখা হয়েছিল।

ওই ঘটনার সময়ে ইসরায়েলি জঙ্গি বিমান সিরিয়ার ভেতরে একটি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে গিয়েছিল। ইসরায়েলের দাবি, সিরিয়ার ওই স্থাপনা থেকে ইরান হেজবুল্লাহকে অস্ত্র সরবরাহের চেষ্টা করছিল। ইসরায়েলি বিমানগুলোকে লক্ষ্য করে সিরিয়ার ছোড়া এস-২০০ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে রুশ বিমানটিতে।

সিরিয়ায় রাশিয়ার নিজের এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এবার সিরিয়ার হাতেও সেটি তুলে দিতে যাচ্ছে রাশিয়া।