সৌদি আরবের নির্বাসিত সাংবাদিক জামাল খাশোগির নিখোঁজ রহস্য উন্মোচনে একটি কালো ভ্যান খুঁজছে তুরস্কের পুলিশ। তাদে ধারণা, এই কালো গাড়িতে করেই খাশোগির লাশ কনস্যুলেট ভবন থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া তুর্কি পুলিশ রাস্তায় লাগানো ক্যামেরার রেকর্ডও খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ছয়টি গাড়ির বহরে একটি গাড়িতে সৌদি হিট স্কোয়াড ছিল, এরাই সাংবাদিককে হত্যা করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এখবর জানিয়েছে।
তুর্কি কর্মকর্তারা জানান, ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে খাশোগি প্রবেশের দুই ঘণ্টা পর ছয়টি গাড়ির একটি বহর বের হয় ভবন থেকে। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে বহরের একটি কালো ভ্যানে বক্স তোলা হচ্ছে। এই গাড়িটির কূটনৈতিক নাম্বার প্লেট রয়েছে। কনস্যুলেট ভবন থেকে বের হয়ে বহরের তিনটি গাড়ি বামদিকে মোড় নেয় এবং তিনটি গাড়ি ডান দিকে চলতে থাকে।
তদন্তকারীরা বলছেন, বহরের একটি গাড়ি, কালো গ্লাস লাগানো ভ্যান তাদের তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ভ্যানটিকে কাছের একটি সড়কে শনাক্ত করা হয়েছে।
প্রায় এক সপ্তাহ আগে সৌদি আরব থেকে নির্বাসিত সাংবাদিক ও কলামিস্ট খাশোগি ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের পর নিখোঁজ রয়েছেন। তুরস্কের কর্মকর্তারা বলছেন, কনস্যুলেটের ভেতরে সৌদি আরবের এজেন্টরা এই সাংবাদিককে হত্যা করেছে। সৌদি আরব এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, কনস্যুলেটে প্রবেশের কিছুক্ষণ পরেই খাশোগি বের হয়ে গেছেন।
তুরস্কের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা এখনও মনে করেন খাশোগিকে হত্যা বা অপহরণের জন্য সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় হিট স্কোয়াড (খুনি বাহিনী) কে ইস্তানবুল পাঠানো হয়েছিল। তারা মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কনস্যুলেটে ঘাপটি মেরে অপেক্ষায় ছিলেন কখন খাশোগি হাজির হন। কনস্যুলেটে এটা ছিল তার দ্বিতীয় প্রবেশ। স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ চূড়ান্ত করতে এর আগে শুক্রবার গিয়েছিলেন তিনি। তখন তাকে জানানো কাগজপত্র ঠিক নেই। মঙ্গলবার আসতে হবে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, ইস্তানবুলের আতার্তুক বিমানবন্দরের ফ্লাইট রেকর্ড অনুসারে দেখা গেছে, দুটি সৌদি বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে মঙ্গলবার। আবার একই দিনে খাশোগিকে সর্বশেষ দেখা যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিমান দুটি উড্ডয়ন করে।
খাশোগির নিখোঁজ হওয়ার পেছনে ভূমিকার কথা অস্বীকার করলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, শনিবার ইস্তানবুলে তাদের একটি নিরাপত্তা প্রতিনিধি দলকে পাঠানো হয়েছিল। তবে এই সফরের কারণ জানানো হয়নি।
তুর্কি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই ঘটনায় যে তথ্য তারা প্রকাশ করেছেন এর চাইতে বেশি তথ্য রয়েছে তাদের কাছে।
নির্বাসিত সাংবাদিক খাশোগি সৌদি আরবের প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বড় সালোচক। সৌদি অভিজাত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই সাংবাদিক গত বছর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে রয়েছেন। নির্বাসনে থাকা অবস্থায় তিনি যুবরাজের নেতৃত্বে শুরু হওয়া সংস্কার কর্মসূচির সমালোচনা করে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এ কলাম লিখতেন।
খাশোগির বন্ধু ও তার্কিশ আরব মিডিয়া সংস্থার প্রধান তুরান কিসলাকসি জানান, খাশোগি তাকে বলছেন যুবরাজ তাকে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে রিয়াদে ফিরতে। কনস্যুলেটে প্রবেশের আগে নিরাপত্তার বিষয়ে বন্ধুদের আশ্বস্ত করেছিলেন তিনি। তবে সঙ্গী সেনগিজকে বলেছিলেন, যদি তিনি বেরিয়ে না আসেন তাহলে তুর্কি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। সেনগিজ কয়েক ঘণ্টা পর কর্তৃপক্ষকে জানান। এই সময়ের মধ্যে গাড়ির বহরটি কনস্যুলেট ত্যাগ করেছে।