‘গভীর সম্পর্কের’ সূত্রে ইসরায়েলি বন্দরে ভিড়ল মার্কিন যুদ্ধাজাহাজ

মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ ইসরায়েলের দক্ষিণ অঞ্চলের আশদোদ বন্দরে ভিড়েছে। গত ২০ বছরে এটাই প্রথম এমন ঘটনা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, দুই পক্ষের মধ্যে থাকা ‘গভীর সম্পর্কই’ এ অর্জনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিদেশি জাহাজগুলো সাধারণত ইসরায়েলের উত্তর দিকে অবস্থিত হাইফা বন্দরে নোঙর করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যে এখন দক্ষিণের বন্দরেও নোঙর করতে শুরু করেছে তার কারণ ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন থাকা ষষ্ঠ নৌবহরের জন্য সুযোগ সম্প্রসারিত করা। আর ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতিকে সুবিধাজনক হিসেবে দেখছে ইসরায়েল।s3.reutersmedia.net

শুক্রবার আশদোদ বন্দরে উপস্থিত হওয়া মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস রস একটি ডেস্ট্রয়ার। আশদোদ বন্দের উপস্থিত হওয়ার পর সেখানে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইসরায়েল। জাহজের ডেকে দাঁড়িয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘এই সফরের একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। এই সফর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে থাকা বিশেষ সম্পর্ককেই তুলে ধরে। আমরা সিরিয়ায় অবস্থান নেওয়া ইরানি সেনাবাহিনীর হামলা থেকে নিজেদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের নীতির প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। আর আজ যে ডেস্ট্রয়ার এখানে এসেছে তা সেই সমর্থনেরই বহিঃপ্রকাশ।’ পরে নেতানিয়াহু ও তার দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত স্ত্রী মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি ঘুরে দেখেন এবং মার্কিন নৌকর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

মার্কিন ষষ্ঠ নৌ বহরের মুখপাত্র কমান্ডার কেইল রেইনস এক বিবৃতিতে বলেছেন, মার্কিন যুদ্ধ জাহাজের এই ইসরায়েল সফর ‘দুই দেশের শক্তিশালী ও অটুট বন্ধনকে আরও মজবুত করবে।’ হাইফা ও আশদোদ, দুই বন্দরই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকির মধ্যে থাকা স্থান। হাইফা বন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে হেজবুল্লাহ, লেবানন থেকে। আর আশদোদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ফিলিস্তিনিরা, গাজা উপত্যকা থেকে। বিবৃতিতে মার্কিন ষষ্ঠ নৌবহরের পক্ষ থেকে এই দুই ঝুঁকির বিষয়ে কোনও কিছু বলা না হলেও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আমাদের নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট বন্দরের বিষয়ে গভীরভাবে অনুসন্ধান করি।’