সাংবাদিক জামাল খাশোগির অন্তর্ধানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের বাদশাহ সালমানকে ফোন করেছিলেন। ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথনে সৌদি বাদশাহ দাবি করেছেন, জামাল খাশোগির অন্তর্ধানের বিষয়ে দেশটি জড়িত নয়। ট্রাম্প নিজে তার টুইটার অ্যাকাউন্টে এ সংক্রান্ত একটি বার্তা প্রকাশ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ১৪ অক্টোবর ওয়াশিংটনে অবস্থিত সৌদি দূতাবাস এক টুইটার বার্তায় জামাল খাশোগির বিষয়ে সৌদি আরবকে অভিযুক্ত করে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানিয়েছিল। ট্রাম্প অবশ্য মন্তব্য করেছিলেন, খাশোগির হত্যায় জড়িত থাকলে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন তিনি।
সোমবার (১৫ অক্টোবর) এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, ‘সৌদি আরবের বাদশাহর সঙ্গে এইমাত্র কথা বললাম। সৌদি আরবের ওই নাগরিকের কি হয়েছে সে বিষয়ে তিনি জানেন না বলে জানালেন। তিনি বলেছেন, কী ঘটেছে তা জানার জন্য তারা তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। আমি খুব দ্রুতই আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাদশাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পাঠাব।’
গত ২ অক্টোবর দুপুরে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করেন খাশোগি। এরপর থেকে আর তাকে দেখা যায়নি। তুরস্কের তদন্তকারীরা বলছেন, সৌদি আরবের ১৫ জন এজেন্ট কনস্যুলেটের ভেতরেই খাশোগিকে হত্যা করেছে । তুর্কি আরব মিডিয়া এসোসিয়েশনের প্রধান তুরান কিসলাকসি একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছেন, খাশোগিকে হত্যা করে তার লাশ টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে। সৌদি আরব এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করে আসছে, কনস্যুলেটে প্রবেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি বের হয়ে গেছেন।
খাশোগি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রবল সমালোচক ছিলেন। সৌদি আরবের এ রাজনৈতিক ভাষ্যকার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা তার নিবন্ধে সৌদি জোটের কাতারবিরোধী অবরোধের কঠোর সমালোচনা করতেন। মানবাধিকার প্রসঙ্গে সমালোচনা করায় কানাডার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছিল সৌদি আরব। আর তখন সৌদির সমালোচনায় কলম ধরেছিলেন খাশোগি। সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, তিনি মোহাম্মদ খালেদ খাশোগির দৌহিত্র। খালেদ খাশোগি দেশটির সাবেক বাদশাহ আব্দুল আজিজ আল সৌদের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন।