ব্রিটিশ গবেষকের বিরুদ্ধে আরব আমিরাতে গুপ্তচরবৃত্তির মামলা

সংযুক্ত আরব আমিরাত গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে একজন ব্রিটিশ নাগরিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কার্যক্রম শুরু করেছে। সোমবার অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হয়। যুক্তরাজ্যের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক হিসেবে তিনি আরব আমিরাতে ফিল্ড ওয়ার্কে গিয়েছিলেন। সেখানে থেকে ফেরার পথে বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মিডিল ইস্ট আই জানিয়েছে, ম্যাথিউ হেজেস নামের ওই অভিযুক্ত একসময় আরব আমিরাতভিত্তিক একটি সামরিক- রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তার সহকর্মীদের ধারণা, আরব আমিরাত তার বিরুদ্ধে কাতারের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ প্রমাণ করতে চাইছে।হেজেস

অভিযুক্ত ব্রিটিশ নাগরিক ম্যাথিউ হেজেস দুই সপ্তাহের জন্য আরব আমিরাতে গিয়েছিলেন। তার পিএইচডি গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল ২০১১ সালে ঘটা আরব বসন্তের প্রেক্ষিতে আরব আমিরাতের পরিবর্তিত নিরাপত্তা নীতি। এই স্পর্শকাতর বিষয়ে আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ তাকে বিমানবন্দর থেকেই গত ৫ মে আটক করে।

খালিজ টাইমসকে আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ আবদুল্লা আল শামসি বলেছেন, হেজেস পিএইচডি গবেষণার বিষয়টিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে গোয়েন্দাবৃত্তিতে যুক্ত ছিলেন যা, ‘আরব আমিরাতের সেনাবাহিনী, অর্থনীতি ও রাজনীতিকে বিপদগ্রস্ত করেছে।’

দেশটির যুবরাজ জায়েদ বিন নাহিয়ানের সাবেক উপদেষ্টা আব্দুল্লাহেল আবদুল্লা বলেছেন, হেজেসের সব অধিকার রক্ষা করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে ব্রিটিশ দূতাবাসকেও জানানো হয়েছে।

কিন্তু হেজেসের স্ত্রী ড্যানিয়েলা তেজাদা জানিয়েছেন, হেজেসকে আটক করার পর থেকে কারাগারে রাখা হয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে না। আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, বিচার শুরু হবে ২৪ অক্টোবর। সোমবার (১৫) হেজেসকে আদালতে হাজির করার বিষয়ে তেজাদাকে কোনও কিছু জানানো হয়নি।

তিনি আরও বলেছেন, হেজেসের জন্য আরব আমিরাত যে আইনজীবীকে নিয়োগ দিয়েছে তার কথা ঠিকমত বুঝতে পারেননি হেজেস, কারণ তিনি আরবিভাষী নন। তাছাড়া, দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাকে মাত্র দুইবার দেখা করতে দেওয়া হয়েছে।