সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যার নেপথ্যে থাকা সত্য উদঘাটনের অঙ্গীকার করেছে তুরস্ক। নিখোঁজের প্রায় দুই সপ্তাহ পর ইস্তানবুল কনস্যুলেটে খাশোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করার পর শনিবার এই অঙ্গীকারের কথা জানালো আঙ্কারা। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যের এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা সত্য উদঘাটন ও তা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তিনি। দেশটির ক্ষমতাসীন জাস্টিস এন্ড ডেভলপমেন্ট পার্টির মুখপাত্রও একই অবস্থান পুনারবৃত্তি করেছেন শনিবার। ওমর সেলিক বলেছেন, যা ঘটেছে তা উদঘাটন করবে তুরস্ক। এটা নিয়ে কারও কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই।
২ অক্টোবর ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন জামাল খাশোগি। শুরুতে সৌদি আরব দাবি করে তিনি ভবন থেকে জীবিত বের হয়ে যান। তুরস্ক দাবি করে ১৫ সদস্যের একটি গোয়েন্দা দল কনস্যুলেটের ভেতরেই খাশোগিকে হত্যা করেছে। সৌদি আরব এই অভিযোগ করে এলেও শুক্রবার স্বীকার করে, খাশোগি কনস্যুলেটে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেফতার ও পাঁচজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, খাশোগি হত্যার সৌদি বয়ানে সন্তুষ্ট নয় আঙ্কারা। তাকে যে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে সেজন্য দৃঢ় ও অকাট্য প্রমাণ জড়ো করা হচ্ছে।
এর আগে তুর্কি সূত্র মিডলইস্ট আইকে জানিয়েছিল, ১৫ সদস্যের সৌদি হিট স্কোয়াড খাশোগিকে নির্যাতন ও হত্যা করেছে। পরে তার লাশ টুকরো টুকরো এবং গুম করে ফেলে। সাত মিনিটে তাকে হত্যা করা হয়।
তুর্কি সূত্র জানায়, হিট স্কোয়াডে থাকা ১৫ জনকে তুরস্কে নিয়ে আসতে চায় আঙ্কারা। তাদের আশঙ্কা, তুর্কি তদন্তকারীরা জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতারকৃতদের মৃত্যুদণ্ড দিতে পারে সৌদি আরব।
তুরস্কের প্রসিকিউটর জেনারেল হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। কিন্তু লাশ না পাওয়ার আগ পর্যন্ত তা প্রকাশ করা হবে না। লাশের সন্ধানে তুর্কি পুলিশ কনস্যুলেট ভবন, কনসাল জেনারেলের বাসভবন ও জঙ্গলে অভিযান চালিয়েছে।
শুক্রবার সৌদি আরব হত্যার কথা স্বীকার করলেও খাশোগির লাশের পরিণতি সম্পর্কে কিছু জানায়নি।