কোনও অভিযোগ ছাড়াই সৌদি আরবে বেশ কয়েক বছর ধরে আটক রাখা হয়েছে কয়েকশ রোহিঙ্গা পুরুষ, নারী ও শিশুদের। এদের বেশিরভাগ ২০১১ সালের পর মিয়ানমারের নিপীড়ন এড়াতে ও জীবিকার তাগিদে তেল সমৃদ্ধ দেশটিতে পৌঁছায় ভুয়া পাসপোর্ট নিয়ে। কিন্তু সৌদি সরকারের বৈধ কাগজপত্রহীন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অভিযানে তাদের আটক করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই’র দীর্ঘ চার মাসের তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এই অনুসন্ধানে সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে সাবেক ও বর্তমান বন্দি, সৌদি আরব ও বাংলাদেশে ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গা এবং অ্যাক্টিভিস্টদের সঙ্গে কথা বলেছে।
বর্তমানে বন্দি ও বাংলাদেশে পালানো রোহিঙ্গারা জানান, অনেকেই সৌদি আরবের জেদ্দাহতে অবস্থিত শুমাইসি আটককেন্দ্রে এক থেকে ছয় পর্যন্ত রয়েছেন। তারা সৌদি আরব ছাড়তে পারছেন না, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দি করা হয়েছে তাদের। বন্দিদের মধ্যে শিশুসহ সব বয়সের নারী ও পুরুষ রয়েছেন।
আবু ওবায়েদ (ছদ্মনাম) নামের এক ব্যক্তি আটককেন্দ্র থেকে চোরাই ফোনে বলেন, এখানে থাকা সবাই বের হতে চায়। অনেককে আটক করা হয়েছে ভুয়া পাসপোর্ট নিয়ে আসার কারণে। আপনারা কী আশা করেন? মিয়ানমার সরকার আমাদের পাসপোর্ট বা অন্য কোনও প্রমাণ দিতে রাজি না। দীর্ঘদিন এখানে থাকাটাও চরম কষ্টের। যেতে পারছি না এমনকি মৌলিক অধিকার নিয়েও বেঁচে থাকতে পারছি না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও নেপাল থেকে ভুয়া পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরব পাড়ি জমাচ্ছে। সৌদি আরবে প্রবেশের পরই বিদেশি পাসপোর্টধারী সবাইকে সৌদি অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে আঙুলের ছাপ দিতে হয়। ২০১০ সালে এই ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। এতে করে ভুয়া পাসপোর্ট নিয়ে আসা রোহিঙ্গারা ধরা পড়ছে। এই ব্যবস্থার আগে যাদের আটক করা হয়েছে তাদেরকে চিহ্নিত করতে স্থানীয় রোহিঙ্গাদের সহায়তা নেওয়া হতো।
সৌদি সরকারের তথ্য মতে, শুমাইসি কারাগারে প্রায় ৩২ হাজার কাগজপত্রহীন শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। অনেককেই গ্রেফতারের পরই নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর পরিবর্তে আটক রাখা হচ্ছে। কারণ মিয়ানমার ফিরলে তাদের নিপীড়নের শিকার হতে হবে। যদিও রোহিঙ্গাদের ফেরত না পাঠানোর বিষয়ে সরকারিভাবে কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি সৌদি আরব। তবে অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে না পারার কারণেই সৌদি তাদের আটক রাখছে।