তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু বলেছেন, সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যার ঘটনা তদন্তে জাতিসংঘের উদ্যোগ নিশ্চিত করতে কাজ করেছে তুরস্ক। এ প্রক্রিয়ায় তদের সঙ্গে অন্যান্য কিছু দেশও। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, জাতিসংঘের কোনও সদস রাষ্ট্র বা গুরুত্বপূর্ণ কোনও সংস্থার পক্ষ থেকে অনুরোধ না পেলে জাতিসংঘ যে এ বিষয়ে জড়াবে না তা আগেই বলে রেখেছেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
গত ২ অক্টোবর দুপুরে তুরস্কের ইস্তানবুল শহরে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করেন খাশোগি। এরপর থেকে আর তাকে দেখা যায়নি। তুরস্কের তদন্তকারীরা বলছেন, সৌদি আরবের ১৫ জন এজেন্ট কনস্যুলেটের ভেতরেই খাশোগিকে হত্যা করেছে । তুর্কি আরব মিডিয়া এসোসিয়েশনের প্রধান তুরান কিসলাকসি একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছেন, খাশোগিকে হত্যা করে তার লাশ টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে। সৌদি আরব এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করে আসছে, কনস্যুলেটে প্রবেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি বের হয়ে গেছেন। পরে তারা দাবি করে, এজেন্টদের সঙ্গে ‘হাতাহাতিতে’ খাশোগির মৃত্যু হয়েছে। তার স্বজনরা মরদেহ ফেরত চাইলে সৌদি আরব তা দিতে ব্যর্থ হয়।
সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) তিউনিসিয়ায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই মেভলুত কাভুসোগলু জাতিসংঘের সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়ে তুরস্কের প্রচেষ্টার কথা জানিয়েছেন। সেসময় তিনি সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তারা যেন তদের তদন্তের ফলাফল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানায়।
গত নভেম্বর মাসে জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল আন্তোনিও গুতেরেস তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাভুসোগলুর সঙ্গে খাশোগির হত্যাকাণ্ডের তদন্তে জাতিসংঘের যুক্ত হওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। যদিও পরবর্তীতে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেছিলেন, জাতিসংঘ তুরস্কের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পায়নি।
গত অক্টোবর মাসে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস এবং রিপোর্টার্স এবং উইদাউট বর্ডার্স তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল, তারা যেন জামাল খাশোগির বিষয়ে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি করে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার প্রধান মিশেল ব্যাশেলেও আল জাজিরাকে বলেছেন, যেহেতু সৌদি আরবের তদন্ত কোনও ফলাফলের মুখ দেখছে না, জাতিসংঘের উচিত এখন বিষয়টি হস্তক্ষেপ করা।