উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও জুম্মার নামাজ উপলক্ষে শান্ত ছিল আল আকসা মসজিদ। প্রায় ৪০ হাজার মানুষ মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে একসঙ্গে নমাজ পড়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, আল আকসার বাব আল রাহমা আগামী সোমবার বন্ধের ইসরায়েলি ঘোষণা ও তা অমান্যের পাল্টা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা করা হয়েছিল।
বাব আল রাহমা বা গেট অব মার্সি ‘গোল্ডেন গেট’ নামেও পরিচিত। ২০০৩ সালে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী এই দ্বারটি শেকল দিয়ে বন্ধ করে দেয়। তাদের অভিযোগ, হামাস ওই পথ ব্যবহার করে তৎপরতা চালায়। হামাসকে ইসরায়েল সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে দেখে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইসরায়েলি পুলিশ যখন ওই গেটটি বন্ধ করে দেয় তখন ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করে, এর মাধ্যমে ইসরায়েল আল আকসা মসজিদকে কার্যত দুই ভাগ করে ফেলতে চাইছে, যাতে এর এক ভাগ পড়ে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের দিকে।
পরবর্তী দীর্ঘ ১৬ বছরের চেষ্টায় ফিলিস্তিনিরা বাব আল রাহমা খুলে দিতে বাধ্য করে ইসরায়েলকে। ২০১৭ সালে সেখানে ইসরায়েলের বসানো তল্লাসির যন্ত্রপাতিও সরিয়ে নেওয়া হয়। সমস্যা হচ্ছে, সম্প্রতি ইসরায়েলের একটি আদালত আদেশ দিয়েছে স্থানটি আগামী সোমবার থেকে আবার বন্ধ করে দেওয়ার। কিন্তু আল আকসা পরিচালনাকারী ওয়াকফ কাউন্সিল ওই আদেশ অমান্যের ঘোষণা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার (০৫ মার্চ) প্রকাশিত বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘আল আকসা ও বাব আল রাহমার দখলের বিষয়ে আমরা আদালতের আদেশ মেনে নেব না।’
ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো জানিয়েছে, শুক্রবার (০৮ মার্চ) সেখানে ইসরায়েল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে। এর মধ্যেও ৪০ হাজার মানুষ নামাজ পড়ে। তবে ১৪০ জন মসজিদ প্রাঙ্গণে ঢুকতে পারেননি। কারণ ইসরায়েল তাদেরকে নিষিদ্ধ করেছে। জর্ডানিয়ান সরকারের সহযোগিতায় যে ওয়াকফ ট্রাস্টটি আল আকসা পরিচালনা করে তার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা নিষিদ্ধ হওয়া ১৪০ জনের বিষয়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন।
ইসরায়েল ও জর্ডান ১৯৬৭ সালেও একটি সমঝোতার বিষয়ে ঐকমত্য ঘোষণা করেছিল যে আল আকসা মসজিদে অমুসলিমরা প্রবেশ করতে পারবে। কিন্তু প্রার্থনা করতে পারবে না। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, এই সমঝোতা বারবার ভঙ্গ করেছে ইহুদিরা। ইহুদিদের প্রবেশ এবং সেখানে তাদের প্রার্থনা করার প্রমাণ হিসেবে ছবি ইন্টারনেটে প্রকাশ ও ইসরায়েলের অন্যান্য তৎপরতার ছবি প্রকাশের দায়ে মসজিদ প্রাঙ্গণে ইতোপূর্বে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল সংশ্লিষ্ট ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীদের। ফিলিস্তিনি আন্দোলনকারীরা মনে করেন, ইসরায়েল কার্যত আল আকসা মসজিদ দখল করতে চায় এবং আল আকসার ধ্বংসাবশেষের ওপর নির্মাণ করতে চায় তাদের ‘থার্ড টেম্পল’।