সিরিয়ার বাঘুজে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানার দিনক্ষণ পেছাতে হয়েছে ‘সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসকে’ (এসডিএফ)। কুর্দিদের এই সংগঠন বাঘুজে থাকা স্থানীয় বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার সুযোগ দিতে চায়। এলাকাটি থেকে আগেও বেশ কিছু শরণার্থী বেরিয়ে এসেছে। শনিবার (০৯ মার্চ) আরও সেখানকার আরও কিছু বাসিন্দাকে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দিতে হামলা স্থগিত করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহ ধরে যারা বাঘুজ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে তাদের মধ্যে অধিকাংশই আইএস যোদ্ধাদের স্ত্রী-সন্তান। ইসলামিক স্টেটের কয়েকজন জঙ্গিও এসডিএফের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। এসডিএফ চায় চূড়ান্ত যুদ্ধের আগে যত বেশি সম্ভব নিরস্ত্র মানুষকে বাঘুজ ছেড়ে চলে যাওয়ার সুযোগ দিতে।
গত শুক্রবার (০৮ মার্চ) এসডিএফ জানিয়েছিল, বাঘুজ থেকে যদি আর কেউ বের হয়ে যেতে না চায় তাহলে শনিবার থেকে তারা চূড়ান্ত হামলা শুরু করবে। কিন্তু শনিবার এসডিএফ জানায়, স্থানটি ত্যাগ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সুযোগ দিতে তারা ট্রাক পাঠিয়েছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এসব ট্রাকের মধ্যে চারটি বাঘুজের কিছু বাসিন্দাকে নিয়ে ফেরত এসেছে। তল্লাসির পর এদের বেশিরভাগকেই আল হোল আশ্রয় শিবিরে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার জাতিসংঘ জানিয়েছে, বাঘুজে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের বিরুদ্ধে মার্কিন সমর্থিত কুর্দি বাহিনীর যুদ্ধে বস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ছয় হাজার মানুষ, যাদেরকে রাখা হয়েছে আল হোল শিবিরে। পাঁচ থেকে সাত মার্চের মধ্যেই শিবিরে গেছে পাঁচ হাজারের বেশি আশ্রয়প্রার্থী। সামনের দিনগুলোতে এমন আরও অনেকের যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদের চাপে আল হোল উপচে পড়ছে। ‘ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি’ (আইআরসি) গত শুক্রবার বলেছে, আল হোল আশ্রয় শিবিরটির অবস্থা অত্যন্ত সঙ্গিন। সংস্থাটির মুখপাত্র মিস্টি বুসওয়েল মন্তব্য করেছেন, ‘কারও ধারণা ছিল না বাঘুজে এত বিশাল সংখ্যক নারী ও শিশু অবস্থান করছে।’
একদিকে এটা যেমন সত্য, এসডিএফের যোদ্ধারা আইএসের অবস্থান ঘিরে ফেলেছে, অন্যদিকে তেমনি এটাও সত্য যে সেখানে অন্য জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা রয়েছে। আল কায়েদার সঙ্গে যুক্ত এমন একটি সংগঠন দক্ষিণ-পশ্চিমে ইদলিবের কাছে সিরিয়ার সামরিক বাহিনী ও তাদের সমর্থক ২১ জন সশস্ত্র যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। ‘সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস’ জানিয়েছে, গত রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) হামা প্রদেশের মাসাসনেহ নামক গ্রামে ওই হামলা চালায় আনসার আল তাওহিদ। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও পরবর্তীতে ওই হামলার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। গত শনিবার (০৯ মার্চ) মানবিজে একটি গাড়ি বোমা হামলা হয়েছে। আমাক নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে ইসলামি স্টেট এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।