গোলান নিয়ে মার্কিন সিদ্ধান্তের নিন্দায় আরব নেতারা

গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতির মার্কিন সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিভক্ত আরব নেতারা। রবিবার তিউনিসে অনুষ্ঠিত আরব লিগের সম্মেলনে এই নিন্দা জানান তারা। আরব নেতারা দাবি করেন, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

download

গোলান মালভূমি নিয়ে মার্কিন সিদ্ধান্তের নিন্দা জানানোর চাপ ছিল আরব নেতাদের ওপর। একই সঙ্গে সম্মেলনে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টিও ওঠে এসেছে। উপসাগরীয় বিরোধী, ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব, ইয়েমেন যুদ্ধ, আলজেরিয়া ও সুদানের বিক্ষোভ নিয়ে সম্মেলনে মত-পার্থক্য ওঠে আসে। সম্মেলন থেকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির আকস্মিক চলে যাওয়াতে আঞ্চলিক বিরোধ সহজে নিষ্পপ্তি না হওয়ার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে। তার চলে যাওয়ার কোনও কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি।

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় সিরীয় ভূখণ্ড গোলান মালভূমি দখল করে নেয় ইসরায়েল। ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল জায়গাটি দখল করার পর এখানকার সিরিয়ান আরব বাসিন্দারা অধিকাংশই পালিয়ে যায়। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধে সিরিয়া এটি পুনর্দখলের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। ১৯৮১ সালে ইসরায়েল গোলানকে নিজের অংশ করে নেয় একতরফাভাবে। তবে ইসরায়েলের এই দখলদারিত্বের স্বীকৃতি দেয়নি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। তবে দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতি থেকে সরে এসে ২০১৯ সালের ২৫ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলি দখলদারিত্বের স্বীকৃতি দেন তিনি। হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা ইহুদি ধর্মাবলম্বী জ্যারেড কুশনারের উপস্থিতিতে এ সংক্রান্ত ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প।

তিউনিসে সম্মেলনে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুলআজিজ আরব নেতাদের বলেন, গোলান মালভূমি নিয়ে সিরিয়ার সার্বভৌমত্বকে প্রভাবিত করে এমন যে কোনও পদক্ষেপ একেবারে প্রত্যাখ্যান করে সৌদি আরব।

সম্মেলন শুরুর আগেও আরব নেতাদের কণ্ঠে একই ধরনের নিন্দা প্রতিধ্বনিত হয়েছে। সম্মেলনে ২২টি সদস্য রাষ্ট্র একটি নিন্দা প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে।