ইরানে ইউক্রেনীয় বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করার মুহূর্ত (ভিডিও)

ইরানের রাজধানী তেহরানে ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করার একটি ভিডিও পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার উড্ডয়নের কয়েক মুহূর্ত পর বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানের যাত্রী ও ক্রুসহ ১৭৩ জন নিহত হন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস ভিডিওটি প্রকাশ করেছে। ভিডিওটি প্রকাশের আগেই যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশের গোয়েন্দারা বলে আসছেন, ইরান হয়ত ভুল করে যাত্রীবাহী বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। যদিও ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, অন্ধকার আকাশে একটি উজ্জ্বল আলো দ্রুত গতিতে এগিয়ে যেতে যেতেই বিস্ফোরিত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিমানটি বিস্ফোরিত হয়নি। কিন্তু তাতে আগুন ধরে যায়। বিধ্বস্ত হওয়ার পূর্বে তা বিমানবন্দরে ফিরে আসার চেষ্টা করেছিল।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্টকে এক প্রত্যক্ষদর্শী যা বলেছেন তাতে মনে হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র বিমানটিতে আঘাত করার পর তাতে আগুন ধরে যায়। নিরাপত্তার কারণে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি বলেন, বিমানের মতো কিছু একটাতে একটি আলোকে আঘাত করতে দেখি। এরপরও এক বা দুই মিনিট তা এগিয়ে যায়।

তেহরান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছের পারান্দ শহরে বাস করেন এই প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি বলেন, আমি খুব ভয় পেয়ে গেছিলাম। মনে করেছিলাম যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে, ভেবেছিলাম যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। পরে বিমান বিধ্বস্তের কথা জানতে পারি।

পশ্চিমাদের দাবি মতে, যাত্রীবাহী বেসামরিক বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার কারণে। যে সেনা শাখা বাগদাদে মার্কিন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রই আঘাত করে বিমানটিতে।

বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম ইঙ্গিত দেন কী ঘটে থাকতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ফাঁস করা তথ্যে বলা হয়েছে, ইরানের ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের দায় অস্বীকার করে ট্রাম্প লিখেছেন, বিমানটি খুব ভালো উড়ছিল। কেউ হয়ত ভুল করে বসেছে। আমার মনে হচ্ছে ভয়াবহ কিছু ঘটেছে।

কানাডার প্রধানমন্তী জাস্টিন ট্রুডো আরও বেশি সংশয়হীন। ট্রাম্পের বক্তব্যের কিছুক্ষণ পরে তিনি বলেছেন, বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য, যাদের মধ্যে আমাদের মিত্র ও নিজেদের গোয়েন্দারা রয়েছেন তাদের সংগ্রহ তথ্য-প্রমাণ ইঙ্গিত দেয় যে, বিমানটিতে ইরানের এসটিএ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তিনি আরও বলেন,  হয়তো তা ইচ্ছাকৃত ছিল না।

খবরে বলা হয়েছে, তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে উড্ডয়নের পর মুহূর্তে বিধ্বস্ত হলেও বোয়িং ৭৩৭-এর ক্রুরা রেডিওতে সহযোগিতা চায়নি।

বিমান বিধ্বস্তে নিহতদের মধ্যে ব্রিটেনের ৪ জন, ইরানের ৮২ জন, কানাডার ৬৩ জন ও ইউক্রেনের ১১ জন নাগরিক ছিলেন। বিমানটি কিয়েভ যাচ্ছিল।