ফোরদো পরমাণু স্থাপনায় ২০ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ শুরু করেছে ইরান। দেশটির সরকারের মুখপাত্র আলী রাবিয়ি সোমবার বলেছেন, প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির নির্দেশে ফোরদো স্থাপনায় ২০ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০১৫ সালে বিশ্ব পরাশক্তিদের স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তির সবচেয়ে বড় লঙ্ঘন এই সমৃদ্ধকরণ। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পার্স টুডে ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।
সমৃদ্ধকরণ ইউরেনিয়াম জ্বালানির রিঅ্যাক্টর তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। তবে তা পারমাণবিক বোমা নির্মাণেও কাজে লাগে। অস্ত্র নির্মাণে ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতা ৯০ শতাংশ প্রয়োজন হয়। ইরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। ২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর দেশটি পারমাণবিক চুক্তির অনেক ধারা লঙ্ঘন করেছে।
আলী রাবিয়ি বলেন, ফোরদো স্থাপনায় গ্যাস প্রবেশ করানোর প্রস্তুতি সংক্রান্ত কাজ শুরু হয়েছে। সোমবার ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড বা ইউএফসিক্স এর প্রথম ফলাফল হাতে আসবে।
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)- কে জানানোসহ সব ধরণের নিয়ম মেনেই এ কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ইরানের জাতীয় সংসদে ‘স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকশন প্ল্যান’ নামে যে বিল পাস হয়েছে তা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট এ সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করেছেন বলে জানিয়েছেন সরকারের মুখপাত্র।
এর আগে ইরান বলেছে, জাতীয় সংসদে বিল পাস হওয়ার পর ইরানের সরকার এবং জাতীয় আণবিক শক্তি সংস্থা এটি বাস্তবায়ন করতে এখন বাধ্য।
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএ স্বীকার করেছে যে, ইরান একটি চিঠির মাধ্যমে তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। আইএইএ আরও বলেছে, রাতদিন ২৪ ঘণ্টার জন্য সংস্থার পরিদর্শকরা ইরানে অবস্থান করছেন এবং তারা নিয়মিত ফোরদো পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শন করেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের এই উদ্যোগ কোনোভাবেই ব্যাখ্যা করার সুযোগ নাই। ইরান যে সামরিক পারমাণবিক প্রকল্প চালিয়ে যাচ্ছে তা বুজতে হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুখপাত্র পিটার স্টানো বলেছেন, ইরানের এই উদ্যোগ নিশ্চিত হলে পারমাণবিক চুক্তির আওতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে বড় ধরনের ছিটকে পড়া।