ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনায় ‘সৎ মধ্যস্থতাকারীর’ ভূমিকা পালন করতে চান। বৃহস্পতিবার রাতে আটলান্টিক কাউন্সিল থিংক ট্যাংকে দেওয়া বক্তব্যে নিজের এমন অবস্থানের কথা জানান তিনি।
ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যে কোনও সংলাপে বসার আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি এ ব্যাপারে সম্ভাব্য সবকিছু করতে প্রস্তুত রয়েছেন। একইসঙ্গে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনায় সৌদি আরব ও ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে পরমাণু চুক্তিতে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এ আহ্বান জানিয়েছেন। সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জারিফ বলেন, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি সমন্বয়ের প্রচেষ্টায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের একজন কর্মকর্তা সাহায্য করতে পারেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল এই মিটমাটের কাজটি সম্পাদন করতে পারেন বলে মন্তব্য করেন জারিফ।
ওবামা আমলে ইরানের পরমাণু সমঝোতা স্বাক্ষরের পর থেকেই এর বিরুদ্ধে সরব হয় ইসরায়েল ও সৌদি আরব। পরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন। তবে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন ক্ষমতায় এলে তিনি ফের যুক্তরাষ্ট্রকে এ চুক্তিতে ফেরাবেন। ফলে এখন বাইডেন ক্ষমতায় আসায় বিপাকে পড়েছে সৌদি আরব ও তার মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশ দুইটি চাইছে, ওয়াশিংটন যদি শেষ পর্যন্ত ফের এ সমঝোতায় ফিরে যায় তাহলে তেহরানের সঙ্গে নতুন আলোচনায় যেন তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে এ ব্যাপারে নিজের অবস্থান এরইমধ্যে পরিষ্কার করেছে ইরান। দেশটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ওই সমঝোতায় নতুন করে তৃতীয় কোনও পক্ষকে যুক্ত করার সুযোগ নেই। সূত্র: পার্স টুডে, বিবিসি।