ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্নের পথে সৌদি

সৌদি আরবের শিয়া নেতা শেখ নিমরের শিরশ্ছেদের ঘটনায় সৌদি-ইরান সম্পর্ক চরমে পৌঁছেছে। ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পর এবার দেশটির সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্কও ছিন্ন করার পরিকল্পনা করছে দেশটি। একইসঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার সব ফ্লাইট বাতিল এবং নিজ দেশের নাগরিকদের ইরান ভ্রমণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে রিয়াদ।

০৪ জানুয়ারি ২০১৫ সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে নিজ দেশের এমন অবস্থানের কথা জানান সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল বিন আহমেদ আল জুবায়ের।

অবশ্য ইরানি তীর্থযাত্রীদের মক্কা ও মদিনায় পবিত্র স্থানগুলো পরিদর্শনের ক্ষেত্রে কোনও বিধিনিষেধ থাকছে না বলে জানান সৌদি মন্ত্রী।

Saudi vs Iran

দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ইরানের কাছ থেকে ‘স্বাভাবিক রাষ্ট্রের মতো আচরণ’-এর ওপর জোর দেন আদেল বিন আহমেদ আল জুবায়ের।

শিয়া নেতা শেখ নিমরের শিরশ্ছেদকেও সঠিক বলে দাবি করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে রবিবার ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয় সৌদি আরব। শেখ নিমরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জেরে তেহরানে সৌদি আরবের দূতাবাসে হামলার পর এ সিদ্ধান্ত নেয় রিয়াদ।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবেইর রবিবার রিয়াদে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করছে সৌদি আরব। ইরানের কূটনৈতিক মিশনের সব সদস্যকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরব ত্যাগ করতে অনুরোধ করা হচ্ছে।’

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রিয়াদের পক্ষ থেকে ইরানকে দেশটির সৌদি দূতাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তেহরান সহযোগিতা করেনি। তারা দূতাবাস রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তারা আঞ্চলিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়।

তিনি বলেন,‘আরব বিষয়ে ইরানের ইতিহাস নেতিবাচক হস্তক্ষেপ ও বৈরিতায় ভরপুর। বিনাশই তাদের সার্বক্ষণিক সঙ্গী।’

মধ্যপ্রাচ্যে যথাক্রমে সুন্নি ও শিয়া নেতৃত্বাধীন দুই প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব ও ইরান। সিরিয়া ও ইরানের সংঘাতে দুই দেশেরই স্বতন্ত্র অবস্থান ও অংশগ্রহণ রয়েছে। কিন্তু শনিবার সৌদি আরবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শেখ নিমরসহ ৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় দু’দেশের মধ্যকার বৈরী সম্পর্ক আরও বৈরীতায় রূপ নেয়।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবে ২০১৫ সালে মোট ১৫৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দুই দশকের মধ্যে এটিই দেশটিতে এক বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, এদের মধ্যে প্রথম ১০০ জনের ৫৬ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায়।

/এমপি/