সিরিয়ায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, সংহত হবে আসাদের ক্ষমতা

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বুধবার সকাল থেকে ভোট দেওয়া শুরু করেছে দেশটির নাগরিকেরা। এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।  সরকার বলছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে দশক ব্যাপী গৃহযুদ্ধ সত্ত্বেও সিরিয়া স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো বলছে, এই নির্বাচন আসাদের ক্ষমতা সংহত করা ছাড়া আর কিছু নয়। এতে আসাদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই প্রার্থী। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বুধবার ভোটগ্রহণ শুরুর পর রাজধানী দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস ফ্যাকাল্টি ভোটকেন্দ্রের বাইরে জড়ো হয় শত শত শিক্ষার্থী। অমল নামে এক নার্সিং শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা বাসার আল আসাদকে নির্বাচিত করতে এসেছি... তাকে ছাড়া সিরিয়া সিরিয়া থাকবে না।’ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে গত কয়েক দিনে সিরিয়ার কয়েকটি এলাকায় বড় বড় র‍্যালি আয়োজন করা হয়।

২০০০ সালে পিতা হাফিজের মৃত্যুর পর প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসেন বাসার আল আসাদ। তার আগের ৩০ বছর প্রেসিডেন্ট ছিলেন তার বাবা হাফিজ।

২০১‌১ সালে আরব বসন্তের জেরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর নিপীড়ন শুরু করলে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। বিগত এক দশক ধরে চলছে এই যুদ্ধ। এই যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। আর দেশটির প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে।

আসাদের বিরুদ্ধে এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা অন্য দুই প্রার্থী হলেন সাবেক ডেপুটি ক্যাবিনেট মন্ত্রী আবদাল্লাহ সালুম আবদাল্লাহ এবং ছোট একটি বিরোধী দলের নেতা মাহমুদ আহমেদ মারেই।

সিরিয়ার এই নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে না বলে ইতোমধ্যেই বিবৃতি দিয়েছেন ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।