আফগানিস্তানের মার্কিন-ন্যাটো সেনা প্রত্যাহার ‘ভুল’ পদক্ষেপ : বুশ

যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তান থেকে মার্কিন ও ন্যাটোর সেনা প্রত্যাহারকে ভুল অ্যাখা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। এতে দেশটির সাধারণ মানুষ সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবানের হত্যাকাণ্ডের মুখে পড়বে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন তিনি।

জার্মানির সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিদেশি সেনা তুলে নেওয়ায় সামনে পরিণতি খুবই খারাপের দিকে যাচ্ছে। আফগান নারী ও শিশুরা অবর্ণনীয় কষ্টের মুখে পড়বে। এটা একটি ভুল... নিষ্ঠুর তালেবান গোষ্ঠীর হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো। এ সিদ্ধান্তে আমার মন ভেঙে গেছে’।

আফগানিস্তানে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল তালেবান সরকার। নাইন-ইলেভেনের পর আফগানিস্তানে আল-কায়েদা নির্মূলে অভিযানে নামে মার্কিন বাহিনী। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন জর্জ ডব্লিউ বুশ। এরপর দেশটিতে মার্কিন সেনা ছাড়াও ন্যাটোর সেনারা অবস্থান নেন।

দীর্ঘ ২০ বছর আফগানিস্তানে অবস্থান করে আসছে বিদেশি সেনারা। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এখন মার্কিন সেনাদের ফিরিয়ে নিচ্ছেন নিজ দেশে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ আফগান নাগরিকদেরকেই ঠিক করতে হবে। এ অবস্থায় আবারও তালেবানের দখলে যাচ্ছে আফগানিস্তান। আগামী ১১ আগস্টের মধ্যেই সব সেনা প্রত্যাহার হওয়ার কথা রয়েছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বুশ বলেন, সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলও মর্মাহত হয়েছেন।

মার্কিন ও বিদেশি সেনা প্রত্যাহার প্রায় শেষের দিকে। সীমান্ত অঞ্চলে তালেবান নিজেদের আধিপত্য দেখাচ্ছে। তাজিকিস্তান ও পাকিস্তানের সঙ্গে আফগান সীমান্ত দখলে নেওয়ার দাবি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। তাদের দাবি, আফগানিস্তানের ৮৫ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।