রিয়াদ থেকে লেবানিজ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছে সৌদি আরব। সেই সঙ্গে দেশটি থেকে সব ধরনের পণ্য আমদানিও বন্ধ করে দিয়েছে। এরপর সৌদি আরবের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েত। দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি নিয়ে শনিবার উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে আরব লিগ।
এই বিরোধের সূচনা হয় এই সপ্তাহের শুরুর দিকে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের পর। ওই সাক্ষাৎকারে লেবাননের তথ্যমন্ত্রী জর্জ কোরদানিকে বলতে শোনা যায়, ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আগ্রাসন চালিয়েছে।
সাত বছরের বেশি সময় ধরে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আসছে। সৌদি আরব এবং হুথি বিদ্রোহী বাহিনী- উভয় পক্ষই ইয়েমেনে নৃশংসতা চালানোর অভিযোগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে।
মন্ত্রী হওয়ার আগে গত আগস্ট মাসে ওই সাক্ষাৎকারটি দিয়েছিলেন কোরদানি। সেখানে ওই যুদ্ধকে তিনি 'নিরর্থক' বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, হুথি বিদ্রোহীরা 'আত্মরক্ষা'র জন্য যুদ্ধ করছে।
লেবাননের সরকার বলেছে, কোরদানির বক্তব্য তার ব্যক্তিগত, এটি সরকারের অবস্থান নয়। কিন্তু গত কয়েক বছরে সৌদি ব্লকের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক বেশ তিক্ত হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে লেবাননে ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রভাব বাড়ছে, যারা ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের সমর্থন করছে।
লেবানিজ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের সৌদি সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাহরাইনও তাদের দেশ থেকে লেবানিজ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে। এরপর কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত একই পদক্ষেপ নেয়। এই তিনটি দেশটি সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, 'সংহতি' জানাতে তারা লেবানন থেকে তাদের কূটনীতিকদের প্রত্যাহার করে নিয়ে আসবে। সেই সঙ্গে তাদের নাগরিকরা যাতে লেবাননে যেতে না পারে, সেই ব্যবস্থাও নেবে।
বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদদাতা টম বেটম্যান বলছেন, সৌদি আরব এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অসন্তোষের বারুদে অগ্নিসংযোগ করেছে কোরদানির মন্তব্য। ইরানের সমর্থনে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হেজবুল্লাহর লেবাননে অব্যাহত প্রভাব বৃদ্ধির কারণে এসব দেশ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটছে, যখন লেবানন চরম অর্থনৈতিক সংকটে হিমশিম খাচ্ছে এবং দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। জ্বালানি তেলের অভাবে দেশের অনেক এলাকা অন্ধকার হয়ে থাকছে। মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকায় অনেকে মৌলিক চাহিদাও পূরণ করতে পারছে না।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সৌদি আরবের সিদ্ধান্তে তিনি হতাশ হয়েছেন। তার আশা, দেশটি তাদের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।
শনিবার মন্ত্রীদের একটি জরুরি বৈঠক হয়েছে। সেখানে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুক্ত একটি রাজনৈতিক ব্লকের সদস্য কোরদানিকে পদত্যাগ করতে বলা হবে কিনা, সেই আলোচনাও হয়েছে। তবে উদ্বেগ রয়েছে যে তাকে পদত্যাগ করতে বলা হলে সেটির নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে, যার ফলে দেশটির জোট সরকার হুমকিতে পড়তে পারে।
বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদদাতা টম বেটম্যান বলছেন, কোরদানির পদত্যাগ চাওয়া বা রাষ্ট্রদূতদের বহিষ্কারে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে।
বৈরুতের বর্তমান সরকার নানা গোষ্ঠী-সম্প্রদায়ের জোট মিলে গঠিত হয়েছে। যদিও সরকার বেশ দুর্বল ও অকার্যকর, কিন্তু দেশটির বাসিন্দাদের আশঙ্কা, সেখানে কোনও সমস্যা তৈরি হলে তা লেবাননের জন্য বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।