পশ্চিমাদের অভিযোগ নিয়ে যা বলছে ইরান

ইরানের তৈরি ড্রোন নিয়ে ইউক্রেনে সিরিজ হামলা চালাচ্ছে রুশ বাহিনী। দফায় দফায় এমন অভিযোগ করে আসছে ইউক্রেন ও দেশটির পশ্চিমা মিত্ররা। এর মধ্যেই  শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপের তিন দেশ যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে তেহরান। উস্কানিমূলক পন্থায় অগ্রসর না হতে পশ্চিমাদের সতর্ক করেছে তারা। শনিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর ইরানি ড্রোন ব্যবহারকে কেন্দ্র করে এ সপ্তাহেই তেহরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর মধ্যেই জাতিসংঘের কাছে পাঠানো চিঠিতে বিষয়টি নিয়ে ‘নিরপেক্ষ’ তদন্তের আহ্বান জানায় যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স।

তেহরানের তরফে ইউক্রেনে ব্যবহারের জন্য রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। উল্টো তাদের দাবি, তেহরানকে চাপে রাখতেই এমন অভিযোগ তুলছে পশ্চিমারা।

ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি এক বিবৃতিতে বলেছেন, তার দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের ‘বর্তমান উস্কানিমূলক পন্থাকে’ একটি রাজনৈতিক দৃশ্যপটের অংশ বলে মনে করে।

তিনি বলেন, তেহরান পশ্চিমাদের পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করছে এবং জোরালোভাবে এর নিন্দা জানাচ্ছে।

এদিকে রাশিয়াকে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়া বন্ধ করতে বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন। শুক্রবার ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, কিয়েভে রাশিয়ার ছোড়া ইরানের তৈরি কামিকাজে ড্রোনগুলোর ৮৫ শতাংশ গুলি করে ভূপাতিত করতে সমর্থ হয়েছে তার দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর থেকে ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনা এবং বিভিন্ন শহরে হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া। এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন দিয়ে হামলা চালায় মস্কো। যদিও বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে তেহরান।

বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহানাত আরও বলেন, গত দুই সপ্তাহের ফলাফল যদি দেখি তাহলে আমাদের বিমান প্রতিরক্ষা ৮৫ শতাংশ কার্যকর। তাদের ড্রোনগুলোকে কার্যকরভাবে ভূপাতিত করা গেছে।