ফিলিস্তিনে দখলকৃত পশ্চিমতীরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুই ইসরায়েলি নারী নিহত হয়েছে। শুক্রবার এই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি পুলিশের তাণ্ডব, লেবানন থেকে রকেট হামলা, গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে এই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলো। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গাজা ও লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
অবশ্য লেবানন থেকে রকেট নিক্ষেপ ও গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পাল্টা বিমান হামলা হলেও সীমান্তে হতাহতের খবর খুব একটা পাওয়া যায়নি। উভয়পক্ষ উত্তেজনার তীব্রতা বৃদ্ধিতে আগ্রহী নয় বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, এই মুহূর্তে কেউই তীব্রতা বৃদ্ধি চায় না। আমার মনে হয়, নীরবতার জবাব নীরবতায় দেওয়া হবে, অন্তত আগামী কয়েক ঘণ্টা।
ফিলিস্তিনের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর এক কর্মকর্তা বলেছেন, তারা শান্ত হতে প্রস্তুত। কিন্তু ইসরায়েলও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।
শুক্রবার জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে হাজারো ফিলিস্তিনি মুসল্লি জুমার নামাজে সমবেত হয়েছিলেন। ইসরায়েলও বিপুল সংখ্যায় পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছিল। তবে বড় কোনও ঘটনা ছাড়াই নামাজ শেষ হয়েছে। বিক্ষিপ্ত ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ছাড়া মসজিদের প্রাঙ্গণ মোটামুটি শান্ত ছিল।
পূর্ব জেরুজালেশের এই মসজিদটির জিম্মাদার হলো ফিলিস্তিন ও জর্ডান। মসজিদে ইসরায়েলি পুলিশের যেকোনও উপস্থিতির বিরোধিতা করে আসছে তারা।
সম্প্রতি আল-আকসা মসজিদে অভিযান চালায় ইসরায়েলি পুলিশ। অভিযানের সময় তারা ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের মারধর, গ্রেফতার এবং কয়েকশ’ ফিলিস্তিনিকে মসজিদ থেকে সরিয়ে দেয়। ইসরায়েলের দাবি, তারা মসজিদ থেকে উসকানিদাতাতে অপসারণ করার উদ্যোগ নিয়েছিল। ইসরায়েলি এই পদক্ষেপের নিন্দা জানায় আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।
পবিত্র রমজান মাসে মুসলিমরা রাতে মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় ও দোয়াকে ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে মনে করেন।
শুক্রবার পশ্চিমতীরে গুলিতে নিহত দুই ইসরায়েলি নারী সম্পর্কে বোন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। ইহুদি বসতি হামরার কাছে তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করলে তারা নিহত হন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য তিনি বৈঠক করছেন। গাজার শাসক ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস এই গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রশংসা করেছে। তবে তারা দায় স্বীকার করেনি।
বৃহস্পতিবারের রকেট হামলার জন্য হামাসকে দায়ী করে আসছে ইসরায়েল। তবে গোষ্ঠীটি বলেছে, তারা এই হামলায় জড়িত ছিল না।
সূত্র: রয়টার্স