ইয়েমেনে সৌদি প্রতিনিধিদল, লক্ষ্য স্থায়ী যুদ্ধবিরতি

দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটাতে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য সৌদি আরব ও ওমানের প্রতিনিধিদল ইয়েমেনের রাজধানী সানায় পৌঁছেছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রিয়াদের জড়িত থাকার অবসান ঘটানো নিয়েও আলোচনা হবে এই সফরে। হুথি বার্তা সংস্থা সাবা রবিবার এ তথ্য জানায়।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব ও ইরান চীনের মধ্যস্থতায় একটি চুক্তিতে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সম্মত হওয়ার পর শান্তি প্রচেষ্টাও গতি পেয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে ইয়েমেনের প্রতিবেশী দেশ ওমান।

রাষ্ট্রদূতরা শনিবার রাতে সানা পৌঁছান। বলা হচ্ছে, হুথি সুপ্রিম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের প্রধান মাহদি আল-মাশাতের সঙ্গে বৈরিতা অবসান এবং ইয়েমেনি বন্দরগুলতে সৌদি নেতৃত্বাধীন‘অবরোধ’তুলে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করবেন তারা।

কয়েকটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, হুথি-নিয়ন্ত্রিত বন্দর এবং সানা বিমানবন্দর সম্পূর্ণ পুনরায় চালু, সরকারি কর্মচারীদের মজুরি প্রদান, পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা এবং দেশ থেকে বিদেশিসেনা প্রত্যাহারের সময়সীমার ওপর গুরুত্ব দেবেন দূতরা।

ইয়েমেনের যুদ্ধকে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে বেশ কয়েকটি ছায়া যুদ্ধের একটি হিসেবে দেখা হয়। ইরানের সঙ্গে জোটবদ্ধ হুথিরা ২০১৪ সালের শেষের দিকে সানা থেকে সৌদি-সমর্থিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। তারা উত্তর ইয়েমেন নিয়ন্ত্রণ করছে।

হুথিদের দাবি, তারা একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থা এবং বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়ছে। অন্যদিকে ২০১৫ সাল থেকে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।  

এদিকে শনিবার এক হুথি কর্মকর্তা বলেছেন, এক সৌদি বন্দির বিনিময়ে ১৩ হুথি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে রিয়াদ। সুইজারল্যান্ডে গত মাসে জাতিসংঘ এবং রেড ক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটিতে আলোচনায় ইয়েমেনি সরকার এবং হুথিরা ৮৮৭ বন্দিকে মুক্ত দিতে সম্মত হয়েছিল। ১৩ বন্দির বিনিময় সেই চুক্তির অংশ বলে জানিয়েছেন হুথি কর্মকর্তা আব্দুল কাদের আল-মোর্তাদা। সূত্র: রয়টার্স