সিরিয়া যুদ্ধে নিখোঁজদের সন্ধানে প্রতিষ্ঠান তৈরির পক্ষে জাতিসংঘ

সিরিয়ায় যুদ্ধের আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে একটি মাইলফলক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির সাধারণ পরিষদ বৃহস্পতিবার নিখোঁজ বা জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়া দেড় লাখের বেশি সিরিয়ানের ভাগ্য তদন্ত ও স্পষ্ট করার জন্য একটি স্বাধীন সংস্থা প্রতিষ্ঠার পক্ষে ভোট দিয়েছে।

খসড়া প্রস্তাবটি তোলেন জাতিসংঘে লুক্সেমবার্গের স্থায়ী প্রতিনিধি অলিভিয়ার মেস। তিনি সিরিয়ার পরিবারগুলোরর ‘শক্তি ও সাহসের’ প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ‘প্রিয়জনদের সঙ্গে কী ঘটেছে এবং তারা এখন কোথায় আছে, তা জানার জন্য মরিয়া হয়ে আছে এসব পরিবার।’

তিনি বলেন, ‘এসব পরিবারের নারীরা প্রশাসনিক ও আইনি অসুবিধা, আর্থিক অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হচ্ছে। কারণ তারা তাদের হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের সন্ধান করতেই থাকে।’

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদের পতনের দাবিতে ২০১১ সালে সিরিয়ার শুরু হয় বিদ্রোহ। সরকারবিরোধীদের সামলাতে যখন হিমশিম খাচ্ছিল আসাদ সরকার, ঠিক তখনই দেশটির বেশিরভাগ অংশ দখলে নিয়ে কথিত খিলাফত ঘোষণা করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক উদ্রবাদী সংগঠন আইএস বা ইসলামিক স্টেট।   

এর পর আইএস দমনের পাশপাশি আসাদপন্থিদের দমনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে পশ্চিমা দেশগুলো। অন্যদিকে সংকটের মুহুর্তে আসাদের পাশে দাঁড়ায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। অনেকটা নাটকীয়ভাবে ঘুরে যায় যুদ্ধের মোড়। সিরিয়ায় আইএসের চূড়ান্ত পতন ঘটে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের ফলেই। এখন দেশটির বেশিরভাগ অঞ্চল আসাদ সরকারের নিয়ন্ত্রণে।

প্রায় ১২ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে সিরিয়ার হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। নিখোঁজ হয়েছে অনেকে। রেড ক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটি, নিখোঁজ ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক কমিশন এবং সিরিয়ান আরব প্রজাতন্ত্রের স্বাধীন ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অফ ইনকোয়ারিসহ অনেক আন্তর্জাতিক, বেসরকারি, মানবিক এবং পরিবারকেন্দ্রিক সংস্থাগুলো এই নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তদন্ত শুরু করে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের অভাবে আজও মেলেনি নিখোঁজদের সন্ধান।

সূত্র: আরব নিউজ