ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস গাজায় খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু এই ছিটমহলের সব ফিলিস্তিনি হামাসের কৌশলকে সমর্থন করে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান তামের কারমাউত।
এক দশকের বেশি সময় ধরে ইসরায়েল ও মিসরের অবরোধের মুখে পড়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত হয়েছে ফিলিস্তিনের গাজা। হামাস ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘদিন সশস্ত্র সংগ্রাম করে আসলেও নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভের পর ২০০৭ সালে পশ্চিম তীর-ভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয়।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে রবিবার (০৮ অক্টোবর) কারমাউত বলেছেন, এই অঞ্চলে কোনও নির্বাচন হয় না। তাই জনগণের গণতান্ত্রিক ইচ্ছা অজানা। তারা হামাসকে সমর্থন করে কিনা তাও অজানা।
তিনি বলেন, ইসরায়েলে গণতান্ত্রিক সরকার আছে। ইসরায়েলি জনগণ কী চায় তা সবার কাছে জানা। কিন্তু গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের জনগণের চাওয়ার বিষয়টি পরিষ্কার না।
কারমাউত এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেছেন, ফিলিস্তিন বিভক্তির জন্য ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দায়ী, ফিলিস্তিনিরাও দায়ী। প্রকৃতপক্ষে ইসরায়েলই ফিলিস্তিনের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে। হামাসও ইসরায়েলের নির্দেশে মতো কাজ করে। ফলে ফিলিস্তিনিদের কোনও মতামত রাখার সুযোগ নেই। এমনকি নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ চালানোর মতো নিরপেক্ষ মঞ্চ তৈরির সুযোগও তাদের নেই।
শনিবার গাজার সীমান্ত এলাকার কাঁটাতার ভেঙে ইসরায়েলে ঢুকে পড়ে কয়েকশ’ হামাস যোদ্ধা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রবিবারও বিভিন্ন জায়গায় ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে তাদের বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। একাধিক ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা ও নাগরিককে জিম্মি করার দাবি করেছে হামাস। রবিবার দুই পক্ষে নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। ইসরায়েল বলেছে, হামাসের হামলায় নিহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। অপর দিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭০ জনে। আহতের সংখ্যা আরও কয়েক হাজার।