প্রতি মুহূর্তে আরও মরিয়া হয়ে উঠছে গাজা: জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেছেন, ইসরায়েলের অবরোধে থাকা ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। রবিবার আবারও তিনি দুঃস্বপ্নের রক্তপাত অবসানে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যুতে সোমবার আরেকটি বৈঠকে মিলিত হবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। মধ্যপ্রাচ্য-বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এখবর জানিয়েছে।

লেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন, প্রতি মুহূর্তে গাজা আরও মরিয়া হয়ে উঠছে। জরুরি প্রয়োজনীয় যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে ইসরায়েল সামরিক অভিযান আরও জোরদার করছে, এতে আমি মর্মাহত।

গুতেরেস বলেছেন, যে সংখ্যায় বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন তা একেবারে অগ্রহণযোগ্য।

এর আগে হাজারো মানুষ খাদ্য গুদামের হামলার পর জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, গাজার নাগরিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে।বিভিন্ন গুদামে গম, ময়দা এবং অন্যান্য মৌলিক সরবরাহ লুট করা হয়েছে।  এটি উদ্বেগের বিষয়।

এদিকে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘর্ষের বিষয়ে সোমবার (৩০ অক্টোবর) একটি বৈঠক করবে। ব্রাজিলের স্থায়ী মিশন শনিবার এ ঘোষণা দিয়েছে। অক্টোবর থেকে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে ব্রাজিল।

ব্রাজিলীয় মিশন জানায়, সোমবার বিকাল ৩ টায় (গ্রিনিচ মান সময় সন্ধ্যা ৭টায়) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’  

এর আগে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজা উপত্যকায় স্থল অভিযান সম্প্রসারণ করার ঘোষণা দেওয়ার পরে সংযুক্ত আরব আমিরাত এই বৈঠকের জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল

উল্লেখ্য, ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকা থেকে হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলি ভূখণ্ডে আক্রমণ করার পরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জেরুজালেমের টেম্পল মাউন্টে আল-আকসা মসজিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে হামাস এই আক্রমণ চালায়। হামলার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় সম্পূর্ণ অবরোধ ঘোষণা করে এবং ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে গাজাকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে। ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় স্থল অভিযান শুরু করেছে, এতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল লেবানন ও সিরিয়ার কিছু এলাকায় বোমাবর্ষণ শুরু করে। পশ্চিম তীরেও ইসরায়েল হামলা চালায়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ইসরায়েলি হামলায় ৮ হাজারের  বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ আহত হয়েছেন।