সাতদিনের যুদ্ধবিরতি শেষে গাজায় আবারও শুরু হয়েছে ইসরায়েলি বিমানহামলা। যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়া মাত্র খান ইউনিসের অর্ধশত’র বেশি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বিধ্বস্ত এলাকাটির এখন কোনও অংশই নিরাপদ না। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, জায়গায় জায়গায় আবর্জনার স্তূপ পুরো এলাকাকে বসবাসের অনুপযুক্ত করে ফেলেছে। ব্রিটিশ পর্যবেক্ষক সংস্থা এয়ারওয়ারসের এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান খবরটি জানিয়েছে।
শুক্রবার এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ইতি টানার পর গাজায় ফের হামলা শুরু করে ইসরায়েল। ওইদিন সকাল থেকে গাজার ৪০০শ’র বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে এরমধ্যে দক্ষিণ গাজায় অর্ধশত’র বেশি। ব্রিটিশ পর্যবেক্ষক সংস্থা এয়ারওয়ারস বলছে, গত ১৪ অক্টোবর গাজার ১১ লাখ বাসিন্দাকে ইসরায়েল দক্ষিণে সরে যেতে যেতে বলার একদিন পরেই সেখানে বোমাবর্ষণ বাড়তে থাকে। এরপর থেকে ওই নিরাপদ অঞ্চলে ১২৭টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক মার্কিন এনজিওতে কর্মরত এক নারী বলেন, তার পরিবার গাজা থেকে দক্ষিণ যাওয়ার দুদিন পরেই বোমা হামলা শুরু হয়।আল-নুসিরাত শহরের একটি বেকারীতে হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলিরা মধ্যরাতে হামলা চালায়। প্রচণ্ড শব্দে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। আমরা সেদিন অনেক কেঁদেছিলাম। প্রতিটি দিন ছিল ভয়ংকর। পরেরদিন ওই রাস্তার একটি বাজারে বোমা হামলা চালায় ইসরায়েলিরা। দিনা সাফি, যিনি সংঘাতের শুরুর দিকে গাজা শহর থেকে আল-নুসিরাতে চলে এসেছিলেন, বলেন, দক্ষিণে জীবন ছিল একটি সংগ্রাম, যেখানে খাবার বা পানি ছিল খুবই সামান্য। দূষিত পানি পান করে আমার পরিবারের ১১জন অসুস্থ হয়ে পড়ে। বাড়ির চারপাশে আর্বজনা ও ধ্বংস্তস্তূপ ছিল। কোথাও কোনও ফাঁকা জায়গা নেই, যা রীতিমতো অসহনীয়।
এদিকে গাজায় ১৮ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর পরই, জাতিসংঘ তাদের জন্য মৌলিক পরিষেবার অভাবের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্য সংকটের বিষয়ে বারবার সতর্ক করেছে। গত সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বলেছেন, গাজায় শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখের বেশি আর ৮০ হাজারের মতো রয়েছে ডায়রিয়া রোগী।
বাস্তুচ্যুতদের বেশিরভাগই জাতিসংঘের স্কুল বা শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছে। আবার অনেকে তাদের স্বজনদের বাড়িতে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের পরিচালক ওমর শাকির এর আগেই বলেছেন, গাজার জনসংখ্যার জন্য কোনো নিরাপদ স্থান নেই।
প্রায় দুই মাস ধরে গাজায় আগ্রাসন চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। স্কুল, হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, অ্যাম্বুলেন্স কোনও কিছুই হামলার হাত থেকে রেহাই পায়নি। এখন পর্যন্ত ফিলিস্তিনে নিহতের সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এরই মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে তারা গাজার দক্ষিণে হামলা জোরদার করতে চায়।যদিও অক্টোবরে গাজাবাসীকে নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে দক্ষিণে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইসরায়েল।