একটি নতুন চুক্তি ত্বরান্বিত করতে কাজ করছে রাশিয়া-ইরান

নতুন একটি ‘প্রধান আন্তরাষ্ট্রীয় চুক্তি’র কাজ ত্বরান্বিত করতে কাজ করছে রাশিয়া ও ইরান। মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই খবর প্রকাশ করেছে।

এক বিবৃতিতে রাশিয়া বলেছে, সোমবার একটি ফোন কলে চুক্তির কাজ দ্রুত করতে সম্মত হয়েছেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা, যেটি ‘প্রস্তুতির উচ্চ পর্যায়ে’ ছিল।

তবে চুক্তিটির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি মন্ত্রণালয়টি। এই ঘোষণা এমন সময় এলো যখন মস্কো এবং তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক, বাণিজ্য এবং সামরিক সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত সপ্তাহে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সঙ্গে ক্রেমলিনে পাঁচ ঘণ্টা আলোচনা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

উত্তর কোরিয়ার মতো ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রকাশ্য শত্রু। দেশটি ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সামরিক হার্ডওয়্যার সরবরাহ করতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে। চলমান এ যুদ্ধে ইতোমধ্যেই ইরানের ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার করেছে রাশিয়া।

এর আগে গত মাসে ক্রেমলিন জানিয়েছিল, ‘সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রসহ’ রাশিয়া এবং ইরান তাদের সম্পর্ক উন্নয়ন করছে। তবে ইরান রাশিয়াকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করার কথা ভাবছে—হোয়াইট হাউসের এমন দাবির বিষয়ে কোনও প্রকার মন্তব্য করতে অস্বীকার করছে দেশটি।

আবার ইসরায়েলের শত্রু হামাসের প্রধান সমর্থক ইরান। রবিবার  পুতিনের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফোনে কথা বলেছেন। এসময় ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার ‘বিপজ্জনক’ ইসরায়েলবিরোধী সহযোগিতার বিষয়ে ‘সাফ অস্বীকৃতি’ জানিয়েছেন পুতিন।

ইরানি কর্তৃপক্ষ বলেছে, রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির সামরিক সহযোগিতা দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। গত মাসে ইরান জানিয়েছিল, তারা রাশিয়াকে এসইউ-৩৫ ফাইটার জেট, এমআই-২৮ অ্যাটাক হেলিকপ্টার এবং ওয়াইএকে-১৩০ পাইলট প্রশিক্ষণ বিমান দেওয়ার ব্যবস্থা চূড়ান্ত করেছে।