‘আমরা এখানে মরতে এসেছি’

গত ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলার পর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আকাশ ও স্থলপথে নির্বিচারে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। হামাসকে ধ্বংস করা তাদের লক্ষ্য বলা হলেও গাজায় হতাহতের সংখ্যা ভিন্ন কথা বলছে। ইসরায়েলের এ হামলায় এখন পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নারী ও শিশু। এ যুদ্ধের কারণে ১৪ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নিরাপত্তার আশায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হলেও অসহায় এসব মানুষদের ভাগ্যের ঠিক কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। নির্বিচার হামলায় প্রাণ হারাচ্ছেন তারা, অনেকে হারাচ্ছেন স্বজন। রবিবার (২৫ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এমনই স্বজনহারা এক বাবার কথা জানিয়েছে।

রবিবার গাজা উপত্যকার কেন্দ্রে আল-মাগাজি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় নিহত ৭০ জনের মধ্যে ওই অসহায় বাবার পরিবারও রয়েছেন। ওই হামলায় তিনি তার মেয়ে, মেয়ে জামাই এবং নাতি-নাতনিকে হারিয়েছেন।

ওই বাবা বলেন, নিরাপত্তার জন্য উত্তর গাজা থেকে পালিয়ে মধ্য গাজায় এসেছিল তার পরিবার। সেখানে একটি ভবনের তৃতীয় তলায় আশ্রয় নিয়েছিলেন তারা। তবে সেখানেও নিরাপত্তার সন্ধান পাননি নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে আসা এই পরিবারটি।

তিনি বলেন, ‘তাদের ওপর দেয়াল ধসে পড়েছে। আমার নাতি-নাতনি, আমার মেয়ে, তার স্বামী-সবাই পরপারে চলে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই লক্ষ্যবস্তু। বেসামরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। কোন নিরাপদ জায়গা নেই। তারা আমাদের গাজা শহর ছেড়ে চলে যেতে বলেছিল—এখন মধ্য গাজায় আমরা মরতে এসেছি।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, গত ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েল পাল্টা হামলার শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া এ হামলায় আহত হয়েছে আরও ৫৪ হাজার মানুষ।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের মতে দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলায় ওইদিন এক হাজার ২০০ ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হন। এসময় হামাসের হাতে জিম্মি হন আরও প্রায় ২৪০ জন।