গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মিসরের শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বিশ্ব। ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস ও ইসলামিক জিহাদ প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করলেও অন্যরা কেউ প্রস্তাবটিকে একেবারে নাকচ করে দেয়নি। এতে করে গাজা ইস্যুতে নতুন কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা বাড়ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিলের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য মতে, অক্টোবরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি আগ্রাসনে ২১ হাজারের মতো ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলায় যে ইসরায়েলের ১ হাজার ২শ মানুষ নিহত হয় সে বিষয়টি ফের তুলে ধরেছে তারা। এখানেই মিসরের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মিসরের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা
মিসরের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে পর্যায়ক্রমে জিম্মি মুক্তি এবং গাজা উপত্যকা ও ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরে অস্থায়ীভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি ফিলিস্তিনি সরকার গঠন করা। এই সরকার গাজা ও পশ্চিম তীর নিয়ন্ত্রণ করবে। একজন ঊর্ধ্বতন মিসরীয় কর্মকর্তা এবং জনৈক ইউরোপীয় কূটনীতিক এপিকে প্রস্তাব সম্পর্কে এসব কথা বলেছেন।
মিসরীয় ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রস্তাবে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছে। ১২০ থেকে ১৫০ ফিলিস্তিনি বন্দির বিনিময়ে নারী, অসুস্থ এবং বৃদ্ধসহ ৪০ থেকে ৫০ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তির কথা বলা হয়েছে। মিসর এবং কাতার এই পরিকল্পনায় কাজ করবে।
এদিকে, ইসরায়েল এবং হামাস সবার জন্য একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে যার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি সব বন্দিদের বিনিময়ে গাজার অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে ইসরায়েলকে গাজা থেকে তাদের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে এবং হামাসকে ইসরায়েলে হামলা বন্ধ করতে হবে।
মিসরীয় কর্মকর্তা এপিকে বলেছেন, কাতারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং ইসরায়েল, হামাস, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় সরকারগুলোর কাছে এ বিষয়ে উপস্থাপনও করা হয়েছে।
ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে মিসর ও কাতার । দুটি দেশই গত মাসে ইসরায়েল ও গাজার মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির আলোচনায় একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে।
হামাস ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া
পরিকল্পনাটি ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে আরও আলোচনার নতুন আশা জাগিয়েছিল, যদিও দুই পক্ষই এটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
যদিও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরাসরি এই প্রস্তাবের বিষয়ে মন্তব্য করেননি। তিনি বলেছেন, গাজায় হামলা অব্যাহত রাখবে ইসরায়েল। আমরা আগামী দিনে লড়াইটি প্রসারিত করছি এবং একটি দীর্ঘ যুদ্ধ হবে যা শেষ হওয়ার কাছাকাছিও নেই।
তবে হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। দলটির শীর্ষ কর্মকর্তা ইজ্জাত আল-রিশক এক বিবৃতিতে বলেন, তারা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ছাড়া কোনও আলোচনা করবে না।
এদিকে ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) কার্যনির্বাহী কমিটির একটি প্রতিনিধিদল শিগগিরই কায়রোতে যাওয়ার প্রস্তাব করছে। গাজা ও পশ্চিম তীর পরিচালনায় একটি ঐক্যবদ্ধ সরকার কেমন হতে পারে তা নিয়ে সেখানে আলোচনা হতে পারে।
নেতানিয়াহুর মন্তব্যের পরও ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা মিসরের প্রস্তাব নিয়ে ভাবছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর গাজায় হামাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, এমন কিছুকে ইসরায়েল অনুমতি দেবে ন।
যুক্তরাষ্ট্রের নীরবতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কিংবা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি প্রকাশ্যে এই প্রস্তাব নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। এই বিষয়ে হোয়াইট হাউজের সঙ্গে এপি ও দ্য হিল যোগাযোগ করলেও কোনও মন্তব্য পায়নি।
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে মিসর ও কাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছেন। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা এপিকে বলেছেন, অনেক প্রস্তাব আলোচনায় উঠে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশ্ন হলো, এমন পরিকল্পনায় অগ্রগতি আসবে কি না।