গাজার আল-আহলি আল-আরব হাসপাতাল ডিসেম্বরে দখল করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। যখন সেনাবাহিনী হাসপাতালটি ঘেরাও করেছিল, তখন সেখানে কাজ করছিলেন ফিলিস্তিনের এক চিকিৎসক সাইদ আবদুল রহমান মারুফ। এরপর টানা ৪৫ দিন ইসরায়েলি সেনার হাতে বন্দি ছিলেন মারুফ। সম্প্রতি ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে, বন্দি থাকাকালীন ইসরায়েলি বাহিনীর অকথ্য নির্যাতন ও নিপীড়নের বর্ণনা তুলে ধরেছেন ওই চিকিৎসক।
সাইদ আবদুল রহমান মারুফ বলেছেন, তাকে কোথায় আটকে রাখা হয়েছিল, তা তিনি জানেন না। গাজার ভেতরে হতে পারে। আবার বাইরেও হতে পারে। কারণ আটকের সময় তার চোখ বাঁধা ছিল। এছাড়া বেশিরভাগ সময়ই তার চোখ ও হাত-পা বেঁধে রাখা হত। তোশক-বালিশ ছাড়া নুড়ি পাথরের ওপর তাকে ঘুমাতে বলা হয়েছিল, যেখানে উচ্চস্বরে গান বাজানো হচ্ছিল।
তিনি বলেছেন, সাত সপ্তাহের ওই বন্দিদশার বর্ণনা দেওয়া কঠিন। কারণ তার ওজন ছিল ৮৭ কেজি। বন্দিত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার পর দেখা যায় তিনি ২৫ কেজি ওজন হারিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘আমি আমার ভারসাম্য হারিয়েছি। মনোযোগ হারিয়েছি। সব অনুভূতি হারিয়ে ফেলেছি।’
মারুফ জানান, বন্দি অবস্থায় তিনি ঘুমাতে পারতেন না। এমনকি গত সপ্তাহে মুক্তি দেওয়ার আগেও তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করা হয়।
পরে তাকে কেরেম শালোমে নামিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে রেডক্রস তাকে তুলে নিয়ে আসে। ইসরায়েলি বাহিনী যখন গাজার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, তখন তাকে আটক করা হয়। তাই তার পরিবারের শেষ খবর তিনি জানতে পারেননি। তারা হামলা থেকে বেঁচে আছেন কিনা, তিনি এখনও জানেন না।
হাসপাতাল দখলের সময় ইসরায়েলি সেনারা সব চিকিৎসক ও নার্সদের চলে যেতে বলেছিল। ওই সময় তিনি শেষবারের মতো তার মেয়ের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তার ৫ সন্তান ও স্ত্রী, তাদের অন্যান্য আত্মীয়দের সঙ্গে নিজেদের বাড়িতেই ছিলেন। মারুফ জানান, তার মেয়ে তাকে বলেছিল যে সেখানেও হামলা হচ্ছে।
তিনি একজন শিশু বিশেষজ্ঞ। ২৩ বছর যাবৎ চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত তিনি। গাজায় ফিরে তিনি অবশ্য আবারও শিশুদের চিকিৎসায় মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
মারুফকে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে অনুরোধ জানায় রয়টার্স। কিন্তু বার্তা সংস্থাটির অনুরোধে সাড়া দেয়নি তারা। শুধু বলেছে, পরে এ ঘটনায় বিবৃতি দেবে তারা।
গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন ৭ অক্টোবর বোমাবর্ষণের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। পরে অক্টোবরে একটি স্থল অভিযান শুরু করে বাহিনীটি। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, ইসরায়েলি আগ্রাসনে ইতোমধ্যে ২৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযোগ, সামরিক অভিযান চালানোর জন্য হাসপাতালগুলোকে ব্যবহার করছে হামাস। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটি।