গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের সামরিক শাখার দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা মারওয়ান ইসা নিহত হয়ে থাকতে পারেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তার নিহতের বিষয়টি যাচাই করছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তবে তার নিহতের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যদি এই দাবি সঠিক হয় তাহলে পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে চলমান আগ্রাসনে ইসরায়েল কর্তৃক নিহত সর্বোচ্চ পদধারী হামাস নেতা হবেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর রেডিও জানিয়েছে, শনিবার রাতে মধ্য গাজার আল-নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কাছে তথ্য ছিল, এই শিবিরেই অবস্থান করছেন হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসেম ব্রিগেডের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মারওয়ান ইসা। হামলায় পাঁচ জন নিহতের কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বা হামাস কর্মকর্তারা হারেৎজের প্রতিবেদনের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
রবিবার গত ২৪ ঘণ্টার অভিযান নিয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের সেনারা মধ্য গাজায় জঙ্গিদের হত্যা করেছে। তবে এতে শরণার্থী শিবিরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
ইসরায়েলের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় রয়েছেন ইসা। তার সঙ্গে হামাসের সামরিক শাখার প্রধান মোহাম্মদ দেইফ ও গাজায় হামাসের নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারও এই তালিকায় রয়েছেন। ধারণা করা হয়, ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে চালানো হামলার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন তারা। এই হামলার জবাবে গাজায় আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল।
৭ অক্টোবর হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায়। তাদের হামলায় ১২০০ জন নিহত ও ২৫৩ জনকে অপহরণ করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। জবাবে গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা ৩১ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে গাজা কর্তৃপক্ষ।
ইসা নিহতের ঘটনা নিশ্চিত হলে তা যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে একটি চুক্তির সম্ভাবনাকে আরও জটিলতায় ফেলতে পারে। যদিও ইসরায়েল বলছে, মিসরীয় ও কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চলছে।
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ শনিবার বলেছিল, উভয়পক্ষ পার্থক্য কমিয়ে আনা ও সমঝোতায় পৌঁছার চেষ্টা করছে।
হামাস অভিযোগ করে আসছে, যুদ্ধ বন্ধ ও গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে ইসরায়েল। আর তেল আবিব চায় জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে সাময়িক সমঝোতা। তারা বলছে, হামাসকে নির্মূল না করা পর্যন্ত তারা যুদ্ধ থামাবে না।