ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা একটি জটিল পর্যায়ে রয়েছে। ইসরায়েল এবং হামাস গাজায় চলমান সংঘাত বন্ধ এবং জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে এখনও ‘একটি চুক্তির কাছাকাছি’ পৌঁছাতে পারেনি। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) এই তথ্য জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার। পরিস্থিতি ‘খুবই জটিল’ রয়ে গেছে বলে সতর্ক করেছে দেশটি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানিয়েছে।
মুসলিমদের পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগে গাজায় ব্যাপকভাবে প্রত্যাশিত একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকরের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলো মার্কিন, কাতারি এবং মিসরীয় মধ্যস্থতাকারী। তাদের প্রচেষ্টায় সপ্তাহব্যাপী আলোচনার পরও একটি যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি বিনিময় সম্ভব হয়নি। অবশেষে কোনও প্রকার যুদ্ধবিরতি ছাড়াই গাজায় সোমবার রমজান মাস শুরু হয়েছে।
একটি সংবাদ সম্মেলনে কাতারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, ‘আমরা একটি চুক্তির কাছাকাছি পর্যায়ে নেই, যার অর্থ আমরা উভয় পক্ষকে এমন কোনও কথায় একমত হতে দেখছি না যা একটি চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে বর্তমান মতবিরোধের সমাধান করতে পারে।’
আল-আনসারি বলেন, সব পক্ষই রমজানের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, একটি চুক্তিতে তিনি ‘কোনও সময়সীমার প্রস্তাব করতে পারেননি’ এবং এ দ্বন্দ্বটি ‘খুবই জটিল’ পর্যায়ে রয়েছে।
ইসরায়েলের সরকারি পরিসংখ্যানে বরাতে এএফপি জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে প্রায় এক হাজার ১৬০ জন নিহত হন। তাদের বেশিরভাগই বেসামরিক ছিল।
ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ যোদ্ধারা প্রায় ২৫০জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে কয়েক ডজনকে নভেম্বরে এক সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতির সময় মুক্তি দেওয়া হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনুসারে, ইসরায়েলের পাল্টা বোমাবর্ষণ এবং স্থল হামলায় এখন পর্যন্ত ৩১ হাজার ১১২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।