গাজা উপত্যকার আল-শিফা হাসপাতালে রাতভর অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সোমবার (১৮ মার্চ) ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, হাসপাতাল ভবনটি হামাসের জ্যেষ্ঠ জঙ্গিরা ব্যবহার করছে জানার পরই হামলা চালিয়েছে তারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, হাসপাতালের সীমিত এলাকায় ট্যাংক, ড্রোন ও ভারী অস্ত্র দিয়ে উচ্চমাত্রার নির্ভুল অপারেশন চালাচ্ছে আইডিএফ।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে পোস্ট করার একাধিক ফুটেছে, হাসপাতালের চারপাশে ভারী গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।
হাসপাতালের ভেতর থেকে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো ভয়েস বার্তায় মুহাম্মদ আল-সায়িদ নামের একজন জানিয়েছেন, সেনারা হাসপাতাল ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েছে। এখানকার পরিস্থিতি ভয়ানক। এখানে সেখানে মৃতদেহ পড়ে আছে। আহতরা সাহায্য প্রার্থনা করছে। তবে হতাহতের সংখ্যা জানা যায়নি।
হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পোস্ট করা একব্যক্তির ভাই কল রেকর্ডে বলেন, ট্যাঙ্কগুলি তাদের ঘিরে রয়েছে। তারা তাঁবুর ভিতরে লুকিয়ে আছে। ভবনের আশেপাশে ট্যাঙ্কে আগুনের শব্দ শুনতে পাচ্ছেন।
গাজার পার্শ্ববর্তী এলাকা আল রিমালে আল-শিফা হাসপাতালের অবস্থান। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, আল রিমাল এলাকায় বিমান হামলা হয়েছে।
আল-শিফায় নতুন হামলা পরিকল্পনার আগাম কোনও সংবাদ দেয়নি আইডিএফ। অথচ হামলার আগে হাসপাতালটিতে আশ্রয় নিয়েছে হাজারো বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি। এটিই ছিল গাজার সবচেয়ে বড় চিকিৎসা কেন্দ্র।
গাজায় হামাসের সরকারি গণমাধ্যম অফিস, এই অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে। হাসপাতালের ভেতরের এই অভিযানকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করেছে তারা।
২০২৩ সালের নভেম্বরে আল শিফায় প্রথমবারের মতো হামলা চালায় হামাস। সেইসময় তারা ভবনের নিচে হামাসের সুড়ঙ্গ ও অস্ত্র খুঁজে পেয়েছিল বলে দাবি করেছে আইডিএফ।
ইসরায়েল বারবারই অভিযোগ করে আসছে, ওই হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে সামরিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে হামাস। এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠনটি।
ফেব্রুয়ারিতে গাজার দ্বিতীয় বৃহত্তম চিকিৎসা কেন্দ্র নাসের হাসপাতালে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।
গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে ৩১ হাজার ৬৪৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আর হামাসের হামলায় এক হাজার ১৩৯ ইসরায়েলি নিহত হয়েছে।