গাজায় ত্রাণ সরবরাহ বাড়ানোর একমাত্র কার্যকর উপায় হলো সড়কপথ: গুতেরেস

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, গাজার মানবিক চাহিদা পূরণের জন্য ভারী পণ্য সরবরাহের একমাত্র কার্যকর এবং ফলপ্রসূ উপায় হলো সড়কপথ। রবিবার (২৪ মার্চ) কায়রোতে মিসরের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর এই মন্তব্য করেছেন। 

বিশ্বজুড়ে গাজা যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে সতর্ক করে  গুতেরেস বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের মানবিক মর্যাদার ওপর প্রতিদিনের হামলা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট তৈরি করছে।

গুতেরেস শনিবার গাজার মিসরের সীমান্তে ভ্রমণ করেছেন। ওই সময় তিনি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের জন্য নির্ধারিত ত্রাণ  সরবরাহ আটকে থাকাকে একটি নৈতিক আক্রোশ বলে অভিহিত করেছেন।

মুসলিম দেশগুলোতে রমজানে সংহতি সফরের অংশ হিসেবে মিসর ও জর্ডান সফর করছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ গাজাকে বিধ্বস্ত নগরীতে পরিণত করেছে। মিসরের উত্তর সিনাইতে ত্রাণবাহী ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে গাজায় প্রবেশের অপেক্ষায়। মিসরের রাফাহ ক্রসিং এবং কেরেম শালোমের ইসরায়েলি ক্রসিং দিয়ে  গাজায় সীমিত পরিমাণে পাঠানো হচ্ছে৷ যা প্রয়োজনের তুলনায়  অপ্রতুল।

রমজান মাসে গাজায় যুদ্ধবিরতির আশা ম্লান হয়ে গেছে এবং উপকূলীয় ছিটমহলে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশগুলো গাজায় ত্রাণ পাঠাতে বিমান থেকে ফেলা এবং সমুদ্রপথ ব্যবহারের চেষ্টা করেছে।

জাতিসংঘের ত্রাণ কর্মকর্তারা বলছেন, ইসরায়েলের  বিরুদ্ধে ত্রাণ  প্রবেশে প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ এনেছেন। তারা বলছেন, স্থলপথে ত্রাণের প্রবেশ বাড়ানো যেতে পারে। তবে ইসরায়েল এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গুতেরেস বলেছেন, প্রচুর পরিমাণে ত্রাণ পাঠানোর জন্য ইসরায়েলকে অবশিষ্ট বাধাগুলো অপসারণ করতে হবে। এজন্য আরও ক্রসিং এবং প্রবেশ পয়েন্ট প্রয়োজন। ভারী পণ্য পরিবহনের একমাত্র ফলপ্রসূ ও কার্যকর উপায় হলো সড়কপথ।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন, জাতিসংঘ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য ইউএনআরডব্লিউএ-এর জন্য তহবিল বজায় রাখার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। 

যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনসহ বেশ কয়েকটি দেশ জাতিসংঘ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-তে তহবিল স্থগিত করেছে। গাজাভিত্তিক সংস্থাটির ১৩ হাজার কর্মীর মধ্যে এক ডজন ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় অংশ নিয়েছিল বলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অভিযোগের পর এই তহবিল স্থগিত করা হয়।

ইউএনআরডব্লিউএ-এর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি বলেছেন, ২০২৫ মার্চ পর্যন্ত সংস্থাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল না দেওয়া সিদ্ধান্ত দুঃখজনক।