জাতিসংঘে নয়, ফিলিস্তিনিদের উচিত আলোচনায় স্বীকৃতি চাওয়া: যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, জাতিসংঘে নয়, ফিলিস্তিনিদের উচিত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সরাসরি আলোচনায় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চাওয়া। বুধবার (৩ এপ্রিল) মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এই মন্তব্য করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

মঙ্গলবার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার আবদেনটি পুনর্বিবেচনা করতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ২০১১ সালে এই আবেদন করা হয়েছিল। ২০১২ সাল থেকে ফিলিস্তিন জাতিসংঘের সদস্যপদ না থাকা পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃত। এক্ষেত্রে ইসরায়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাদের মাধ্যমে ইসরায়েলের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য হতে হলে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষমতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এখানে অনুমোদিত হলে পরে ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেতে হয়।

ফিলিস্তিনের আবেদনে নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দেবে কিনা জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেছেন, কী ঘটতে পারে তা অনুমান করতে চাই না। 

তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চয়তাকে সংশ্লিষ্ট করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সরাসরি আলোচনায়। বর্তমানে এই উদ্যোগ আমাদের রয়েছে। কিন্তু তা জাতিসংঘে নয়।

গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের যুদ্ধ ছয় মাসের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য হতে এই উদ্যোগ নিয়েছে ফিলিস্তিন। এছাড়া দখলকৃত পশ্চিম তীরে নিয়মিত বসতি সম্প্রসারণ করছে ইসরায়েল।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্বে থাকা মাল্টা জাতিসংঘ দূত ভ্যানেসা ফ্রেইজার বুধবার বলেছেন, পরিষদের সদস্যদের মধ্যে ফিলিস্তিনের আবেদন বিতরণ করা হয়েছে। উপযুক্ত পন্থায় এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা আলোচনা করব।

এর আগে সোমবার ফিলিস্তিনের জাতিসংঘ দূত রিয়াদ মনসুর বলেছিলেন, তাদের লক্ষ্য হলো ১৮ এপ্রিল মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যেনও নিরাপত্তা পরিষদ একটা সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এখনও কোনও ভোটের সূচি নির্ধারিত হয়নি।

১৯৯০ দশকের শুরুতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মধ্যে ওসলো চুক্তি স্বাক্ষরের পর স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কোনও অগ্রগতি হয়নি।