অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস শহরে ফিরতে শুরু করেছেন সেখানকার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। সোমবার (৮ এপ্রিল) দলে দলে ফিলিস্তিনিরা বিধ্বস্ত শহরে ফিরছেন। দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আংশিক সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর এই ফিরে আসা শুরু হয়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
খান ইউনিসে অনেকেই নিজের শহরকে চিনতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অসংখ্য ভবন, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব হারিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্কুল ও হাসপাতাল। সড়কগুলোতে বুলডোজার চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ডিসেম্বরে খান ইউনিসে অভিযান শুরু করেছিল ইসরায়েল। ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার জবাবে এই আগ্রাসন শুরু করে তারা। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, হামাসের হামলায় ১২০০ জন নিহত ও ২৫০জনকে জিম্মি করা হয়েছে।
হামাসের জবাবে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসন সাত মাসে গড়িয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, এই আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৩৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২৩ লাখ বাসিন্দার বেশিরভাগ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। উপত্যকার বেশিরভাগ এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
ডিসেম্বরে খান ইউনিস থেকে পালানো মাহমুদ আবদেল গনি বলেছেন, অনেক এলাকা, বিশেষ করে শহরের প্রাণকেন্দ্র বসবাসের উপযুক্ত নয়। আমার ও আমার প্রতিবেশীর বাড়ি ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে।
বাস্তুচ্যুত হওয়া নাজওয়া আয়াশ নামের আরেকজন বলেছেন, তার পরিবারের অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের তৃতীয় তলায় তিনি যেতে পারছেন না। কারণ সিঁড়ি নাই। ধ্বংসস্তূপ বেয়ে উপরে ওঠে তার ভাই সন্তানদের জন্য কিছু জিনিসপত্র নিয়ে এসেছেন।
বাসেল আবু নাসের আরেক বাসিন্দা বলেছেন, শহরটি ধ্বংসনগরী হয়ে গেছে। জীবনের কোনও স্পন্দন নেই। তারা কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি।
রবিবার ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনিরা খান ইউনিসে ফিরতে শুরু করে। কেউ হেঁটে, কেউ বাইসাইকেলে প্লাস্টিকের ব্যাগ নিয়ে ফিরছে।
ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজার বাসিন্দাদের শেষ আশ্রয়স্থল রাফাতে সম্ভাব্য অভিযানের আগে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আংশিক সেনা প্রত্যাহার করা হলো। রাফাতে এখন দশ লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছেন। ইসরায়েলের দাবি, রাফা হলো হামাসের শেষ গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি।
রাফাতে সম্ভাব্য ইসরায়েলি অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এর মধ্যে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে। ওয়াশিংটন বেসামরিকদের সুরক্ষার জন্য পরিকল্পনা দাবি করেছে ইসরায়েলের কাছে।