গাজায় চলমান যুদ্ধের অবসান ও বন্দি মুক্তির চুক্তি প্রস্তাব সম্ভবত শেষ সুযোগ হতে পারে বলে ইসরায়েল ও হামাসকে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। সোমবার (১৯ আগস্ট) ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
গত সপ্তাহে কাতারে আলোচনা থেমে যাওয়ার পর হামাস সন্দেহ প্রকাশ করেছিল যে কোনও চুক্তি সম্ভব হবে কিনা। তবে এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া নতুন একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনার পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ব্লিঙ্কেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে বলেন, এই মুহূর্তটি সিদ্ধান্তমূলক। সম্ভবত বন্দি মুক্তি ও যুদ্ধবিরতি অর্জনের সবচেয়ে ভালো ও শেষ সুযোগ এটি।
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে মাসের পর মাস ধরে চলা আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধের অবসান, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং বন্দি বিনিময়ের চুক্তি। ইসরায়েল হামাসের সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে হামাস স্থায়ী যুদ্ধবিরতির শর্তেই চুক্তিতে সম্মত হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে।
হামাস রবিবার নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টা নস্যাৎ করার অভিযোগ করেছে।
ইসরায়েল ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষের ঝুঁকিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বাড়ছে। ব্লিঙ্কেন সতর্ক করেছেন, যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার মতো কোনও উসকানি যেনও না ঘটে।
৭ অক্টোবর ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪০ হাজার ৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এই সংখ্যা গাজার মোট জনসংখ্যার ১ দশমিক ৭ শতাংশ। যুদ্ধ শুরুর আগে মোট ২৩ লাখ মানুষের আবাসস্থল ছিল গাজা।