মিলিশিয়া হুমকিতে দেশ ছেড়েছেন লিবিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর

সশস্ত্র মিলিশিয়াদের হুমকি থেকে বাঁচতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন লিবিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর সাদিক আল-কবীর ও প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য সিনিয়র কর্মচারীরা। শুক্রবার (৩০ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন সাদিক আল কবীর।

সাক্ষাৎকারে আল-কবীর আরও বলেছেন, ‘মিলিশিয়ারা ব্যাংক কর্মীদের হুমকি ও ভয় দেখাচ্ছে। কাজে যেতে বাধ্য করার জন্য তারা কখনও কখনও কর্মীদের সন্তান ও আত্মীয়দেরকে অপহরণ করছে।’

লিবিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি দেশটির বিলিয়ন ডলার তেলের রাজস্ব নিয়ন্ত্রণ করে। ২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত দীর্ঘকালীন শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে সংঘাতে জর্জরিত লিবিয়া পূর্ব ও পশ্চিমে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসন দ্বারা বিভক্ত।

দুই প্রশাসনের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সর্বশেষ বিরোধ সোমবার বৃদ্ধি পায়। ত্রিপোলি-ভিত্তিক প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দ্বেইবাহ ও পশ্চিম লিবিয়া ভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জাতীয় ঐক্যের সরকার আল-কবীরকে অপসারণের চেষ্টা করে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী ওসামা হাম্মদের নেতৃত্বে বেনগাজি ভিত্তিক পূর্বাঞ্চলের সরকার সোমবার তেলক্ষেত্রগুলো বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ব্যাংকের নেতৃত্ব এবং কর্মচারীদের ওপর হামলার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

পূর্বাঞ্চলীয় এই সরকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়, তবে এর সামরিক নেতা খলিফা হাফতার লিবিয়ার বেশিরভাগ তেলক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ করেন।

এমন পরিস্থিতিতে কেউই ব্যাংকের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছে-এমনটি মনে হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আল জাজিরার রিপোর্টার মালিক ট্রেনা।

দেশের বেশিরভাগ ব্যাংকিং কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় এবং লোকজন তাদের অর্থ তুলতে বা স্থানান্তর করতে না পারায় ত্রিপোলি-ভিত্তিক প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল একটি নতুন বোর্ড অফ ডিরেক্টর নিযুক্ত করেছে।