লেবাননের ইরানপন্থি হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী ও ইসরায়েলের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হলে ‘অপ্রত্যাশিত ও ভয়াবহ পরিণতি’ ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা। সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত মধ্যপ্রাচ্য-আমেরিকা সংলাপ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে। তবে প্রতিবেদনে ওই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।
ইসরায়েলি সাংবাদিক বারাক রাভিদ জানান, ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘যুদ্ধের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর সব ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে ফেলা হবে ও সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে—এমন ভাবনা সঠিক নয়। যুদ্ধের শেষে ইসরায়েলকে হয়তো বড় ধরনের মূল্য দিতে হতে পারে এবং তাদের লক্ষ্য পূরণ নাও হতে পারে।’
কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, সীমান্ত উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে সামরিক সমাধানের চেয়ে কূটনৈতিক পন্থা বেশি কার্যকর হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধ কোনও পরীক্ষাগারের মতো নয়; এটা কোনও খেলা নয়। ইসরায়েলের সামরিক শক্তি নিয়ে আমার কোনও সন্দেহ নেই, তবে উভয় পক্ষের জন্যই গুরুতর পরিণতি আসতে পারে।’
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন অক্টোবরের শুরু থেকে প্রতিদিন হিজবুল্লাহ বাহিনী ইসরায়েলি সীমান্তে হামলা চালিয়ে আসছে। সোমবার হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ও রকেট ছুঁড়ে, যার জবাবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবাননে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, উত্তেজনা বাড়লে হাজার হাজার বা এমনকি লাখো মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে এবং উভয় দেশের অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
সম্মেলনে ইসরায়েলের সাবেক মন্ত্রী বেনি গান্তজ বলেছেন, ইসরায়েলকে গাজার পরিবর্তে লেবানন সীমান্তের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ইসরায়েল হামাসের সঙ্গে বন্দি বিনিময়ের চুক্তি করতে দেরি করে তাহলে যুদ্ধের আশঙ্কা নিকটবর্তী।
তবে মার্কিন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ হলে অনেক বেসামরিক নাগরিক মারা যেতে পারে এবং তাদের ঘরে ফেরার মতো কোনও জায়গা নাও থাকতে পারে।