ইসরায়েলে আরও হামলার আহ্বান ইরানপন্থি প্রতিরোধ অক্ষের

ইসরায়েল লক্ষ্য করে ইরানের ১০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রশংসা করেছে ইরান সমর্থিত প্রতিরোধ অক্ষ। মঙ্গলবার ( ১ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের ওপর আরও হামলা চালাতে ইরানের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে তারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।

লেবানন, গাজা, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ‘ইরানের প্রতিরোধ অক্ষ’ হিসেবে পরিচিত। বিবৃতিতে গোষ্ঠীগুলো আরও জানিয়েছে, ‘আমরা ইসরায়েলে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পরিচালিত বীরত্বপূর্ণ রকেট হামলার প্রশংসা করি। হামলাগুলো এই অঞ্চলের মানুষের বিরুদ্ধে দখলদারের চলমান অপরাধের প্রতিক্রিয়া এবং আমাদের জাতির বীর শহিদদের রক্তের প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।’

অবশ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘ইরান-সমর্থিত এই জোটের অনেক সদস্য গত বছরের মধ্যে এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে,তাদের পক্ষে মৌখিক হুমকি ছাড়া বাস্তবিক কোনও হামলা চালানোর ক্ষমতা সীমিত।’

গাজায় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হামাসও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রশংসা করেছে। বলেছে, এটি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানি কমান্ডারদের হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ।

ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি ইরানের প্রশংসা করেছেন। গাজায় যুদ্ধবিরতি না হলে ইসরায়েলি শত্রু ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযান বাড়ানোর হুমকিও দিয়েছেন। এই দলটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি রকেট ও লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোতে হামলার জন্য দায়ী।

অবশ্য কাউন্টার-এক্সট্রিমিজম প্রজেক্টের সিনিয়র উপদেষ্টা এডমুন্ড ফিটন-ব্রাউন বলেছেন, হুথি ও অন্যান্য গোষ্ঠীগুলোর এমন হুমকি দেওয়া প্রত্যাশিত।

তিনি আরও বলেছেন, তাদের এসব হুমকির অতিরিক্ত অর্থ না খোঁজাই উচিত। কারণ ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর পক্ষে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বাইরে যুদ্ধ বাড়ানো সম্ভব নয়। আর ইসরায়েলিরা এতটাই সফল হয়েছে, লেবাননের হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে আর কিছুই করতে পারবে না।

কারণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী সমর্থক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ বর্তমানে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। গত অক্টোবরের পর থেকে গোষ্ঠীটি তাদের অন্তত ৫০০ যোদ্ধা হারিয়েছে। আরও এক হাজারের বেশি সদস্য ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা-মোসাদের পেজার এবং ওয়াকিটকির বিস্ফোরণে আহত হয়েছে। এছাড়া হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহসহ সিনিয়র কয়েকশ’ নেতা সাম্প্রতিক হামলায় নিহত হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের হুথিরা অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে মিত্রতা বাড়াতে পারে এবং এমন একটি জোট তৈরি করতে পারে যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন মধ্যপ্রাচ্য কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের ফেলো ফাওজি আল-গোয়েডি।

ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে গত নভেম্বর থেকে লোহিত সাগর এবং গাল্ফ অব এডেনে চলাচলকারী জাহাজ লক্ষ করে হামলা চালিয়ে আসছে হুথিরা।

আল-গোয়েডির মতে, হুথিরা খুব শিগগিরই নিবৃত্ত হবে না এবং তারা ভারত মহাসাগরে আরও দূরবর্তী স্থানে জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে। সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে ইরাক ও সিরিয়ার ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোও।