যুদ্ধের শঙ্কাতেও লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানের সাফাই গাইলো যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের শঙ্কা থাকলেও লেবাননে ইসরায়েলি স্থল অভিযানের পক্ষে সাফাই গেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন মনে করে, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের স্থল ও বিমান হামলা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) এ কথা জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান সম্প্রসারিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

একটি নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ম্যাথিউ মিলার বলেন, সব যুদ্ধই স্বাভাবিকভাবে পরিবর্তনশীল ও অনিশ্চিত। তাই ইসরায়েলের এই অভিযানের সমাপ্তি কখন ঘটবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে ইসরায়েলের লক্ষ্য হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংস করা এবং সীমান্তে নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাস্তুচ্যুত ইসরায়েলিদের পুনরায় তাদের বাড়িতে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

ইসরায়েল গত মঙ্গলবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সেনা পাঠিয়েছে। দুই সপ্তাহের তীব্র বিমান হামলার পর এই অভিযানে তুমুল লড়াই চলছে। এই সংঘাতে ইরান সরাসরি জড়িত হয়েছে ও এতে যুক্তরাষ্ট্রকেও টেনে আনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা শেষ পর্যন্ত একটি যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক সমাধান দেখতে চাই। তবে আমরা মনে করি, ইসরায়েল এখন সন্ত্রাসীদের শাস্তি দেওয়ার সঠিক কাজটিই করছে।

বাইডেন প্রশাসন বারবার ইসরায়েলকে যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত না করার জন্য সতর্ক করে আসছে। তবে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলে তা ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করে এবং লেবাননে অভিযান আরও জোরদার করে।

লেবাননের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ লেবানিজ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং গত এক বছরে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ নিহতের ঘটনা ঘটেছে গত দুই সপ্তাহে।

গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র কিছু অসন্তোষ প্রকাশ করলেও গত এক বছরে দেশটির সঙ্গে অস্ত্র সরবরাহের সম্পর্ক অব্যাহত রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে আক্রমণ করার পর থেকে গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বলেছে এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে তাদের বাহিনীকে সংযত রাখার জন্য বারবার তাগিদ দিয়েছে।

মিলার আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ইসরায়েলের সঙ্গে হিজবুল্লাহর সংঘাতের লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করেছেন। এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের অভিযান সীমিত স্থল হামলার মধ্যেই রয়েছে এবং তারা লেবাননে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, ইসরায়েল আগেও লেবাননে সীমিত অভিযান শুরু করেছিল। যা পরে যুদ্ধ ও কিছু ক্ষেত্রে দখলে রূপ নিয়েছিল। আমরা সেই ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন এবং এ কারণেই আমরা সংঘাতের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং তাৎক্ষণিকভাবে মূল্যায়ন করছি।

ইসরায়েল অতীতে একাধিকবার লেবাননে আক্রমণ চালিয়েছে। এর মধ্যে ১৯৮২ সালের আক্রমণ ছিল উল্লেখযোগ্য। ওই সময়ে সীমান্ত সংঘর্ষের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইসরায়েল বৈরুতে প্রবেশ করে। এর ফলে হিজবুল্লাহর উত্থান ঘটে।

মিলার বলেন, আমি জানি না সামনে কী ঘটবে। সম্ভবত ইসরায়েলিরাও জানে না। এর অর্থ এই নয় যে, তাদের কোনও পরিকল্পনা নেই বা তাদের কোনও লক্ষ্য নেই। যেকোনও যুদ্ধ অনিশ্চিত।