গাজায় যুদ্ধ: এই প্রথম ইসরায়েলকে সহায়তা বন্ধের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন ইসরায়েলকে গাজায় মানবিক পরিস্থিতির উন্নতি করতে এক মাস সময় দিয়েছেন। তা না হলে মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর আইনি পদক্ষেপের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। এই সতর্কবার্তা জানিয়ে তারা গত ১৩ অক্টোবর ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের একটি চিঠি লিখেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক সাংবাদিক মঙ্গলবার এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এই চিঠির বিবরণ পোস্ট করেছেন। এর মাধ্যমে গত বছর যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম সহায়তা বন্ধের হুমকি দিলো বাইডেন প্রশাসন।

ইসরায়েলের নিউজ ১২-এর এক সাংবাদিক প্রথম চিঠির বিষয়বস্তু এক্স-এ প্রকাশ করেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেছে এমন দুটি সূত্র চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তবে চিঠি নিয়ে মন্তব্যের জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। একইভাবে ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকেও কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রায় এক বছর আগে ফিলিস্তিনি জঙ্গি গোষ্ঠী হামাসের দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজায় মানবিক পরিস্থিতির উন্নতি করতে ইসরায়েলকে বারবার চাপ দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন। তবে বাইডেন প্রশাসন এখন পর্যন্ত ইসরায়েলে পাঠানো মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি।

খবরে বলা হয়েছে, উত্তর গাজায় সামরিক অভিযান বিস্তৃত করার মধ্যেই এই চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকার এবং খাদ্য, পানি ও ওষুধের প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কিছু মানবিক সহায়তার ওপর নতুন যাচাই-বাছাইয়ের নিয়ম চালু করার পর থেকে খাদ্য সরবরাহের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং বাণিজ্যিক সরবরাহও কমানো হয়েছে।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, ইসরায়েলকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি বেসামরিকদের মধ্যে ‘বিপর্যয়কর পরিস্থিতি’ সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সহায়তা সরবরাহ সীমিত করার মাধ্যমে ‘দুর্ভোগ বাড়ানো’ বন্ধ করতে হবে।

চিঠিতে ইসরায়েলকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বেশ কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩৫০টি ট্রাক গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া, সহায়তা সরবরাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং সামরিক প্রয়োজন ছাড়া বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ বাতিল করা।

চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন ও বজায় রাখার জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ হলে মার্কিন নীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে... এবং প্রাসঙ্গিক মার্কিন আইনের ওপরও।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশি সহায়তা আইনের ৬২০আই ধারায় মার্কিন মানবিক সহায়তা সরবরাহে বাধা দেওয়া দেশগুলোর জন্য সামরিক সহায়তা নিষিদ্ধ করা হয়।

চিঠিতে ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জারি করা একটি জাতীয় নিরাপত্তা স্মারকের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছিল, মার্কিন অস্ত্রের ব্যবহার আন্তর্জাতিক বা মার্কিন আইন লঙ্ঘন করছে না এমন বিষয়ে ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতি বিশ্বাসযোগ্য কি না, তা নিয়ে কংগ্রেসে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, গাজায় সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করে থাকতে পারে ইসরায়েল।