গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি হামলায় নিহত অন্তত ৩৮

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে বলে শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান সতর্ক করেছেন যে, ইসরায়েলের হামলার সবচেয়ে অন্ধকার সময়টি গাজার উত্তরে শুরু হচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

গাজার মধ্যাঞ্চল দেইর আল-বালাহ থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজ্জুম জানিয়েছেন, খান ইউনিসের হামলার দৃশ্যগুলো ভয়াবহ। নাসের হাসপাতালের মেঝেতে পড়ে থাকা অনেক মৃতদেহের মধ্যে স্বজনরা তাদের প্রিয়জনদের বিদায় জানাচ্ছে।

গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজা জুড়ে অন্তত ৭২ জন নিহত হয়েছেন।

উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় তিনটি বাড়িতে হামলার ঘটনায় ২৫ জন নিহত ও আরও অনেকে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

শুক্রবার পরে গাজা সিটির শাতি শরণার্থী শিবিরে এক ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৯ জন নিহত হন।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজায় ইসরায়েল হামলা শুরু করার পর থেকে ৪২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

ইসরায়েল গাজাজুড়ে বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান সতর্ক করে বলেছেন যে, গাজার উত্তরে ইসরায়েলি হামলা নৃশংস অপরাধে রূপ নিতে পারে।

ইসরায়েলি বাহিনী দুই সপ্তাহ পূর্বে গাজার উত্তরাঞ্চলে নতুন অভিযান শুরু করেছে। জাবালিয়া, বেইত হানুন ও বেইত লাহিয়া এলাকায় প্রায় ৪ লাখ মানুষ আটকা পড়েছে।

গাজার সরকারের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, হামলার ২১তম দিনে (শুক্রবার) পর্যন্ত কমপক্ষে ৭৭০ জন নিহত এবং এক হাজার জন আহত হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী কামাল আদওয়ান হাসপাতাল ঘিরে রেখেছে। এর একদিন আগে ট্যাংক থেকে হাসপাতাল লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করা হয়।

এদিকে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তির জন্য নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে যুক্তরাষ্ট্র।

হামাসের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হামাসের প্রধান আলোচক খালিল আল-হাইয়া নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার কায়রোতে পৌঁছেছে। সেখানে মিসরীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আলোচকরা দোহায় একত্রিত হয়ে আবারও আলোচনা শুরুর চেষ্টা করবেন বলে বৃহস্পতিবার জানানো হয়।

কাতার ও মিসর দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে মধ্যস্থতা করে আসছে।